
চব্বিশ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি সাংবাদিকের পিতা হত্যা মামলার আসামি
কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
চব্বিশ দিন পার হলেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি সাংবাদিক রফিকের পিতা হত্যা মামলার অভিযুক্তরা।
এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় সচেতন মহল। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিহত রুহুল আমিনের ছেলে সাংবাদিক রফিক জানান,
গত ২০ এপ্রিল পূর্বপরিকল্পিতভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে তার পিতাকে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় দুইজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত মামলার মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার আসামিরা হলেন—সদর দক্ষিণ উপজেলার ৩নং গলিয়ারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের মৃত কাজী সুরুজ মিয়ার ছেলে, ফিরিঙ্গির হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুর সাত্তার মাস্টার এবং মৃত কাজী আলী আকবরের ছেলে, পিপুলিয়া কলেজের শিক্ষক কাজী বিল্লাল হোসেন (খোকন)।
সাংবাদিক রফিক অভিযোগ করে বলেন,
“আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ এতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা ন্যায়বিচার চাই। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
নিহতের স্বজনরা জানান, পরিবারের সদস্যরা এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। বিচারহীনতার আশঙ্কায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটি হত্যা মামলার আসামিরা দীর্ঘ সময় ধরে গ্রেপ্তার না হওয়া উদ্বেগজনক। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
আসামি আব্দুর সাত্তার মাস্টারের বিষয়ে জানতে চাইলে সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম ইকবাল বলেন,
আব্দুস সাত্তার মাস্টারের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তিনি কোনো প্রকার ছুটি ছাড়াই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শন করে হাজিরা খাতায় লাল কালি দিয়ে তাকে অনুপস্থিত দেখিয়েছেন। কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহতের পরিবার সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশা, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।