
মহেশপুরে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার-প্ররোচনাকারীর বিচার দাবিতে মানববন্ধন
সুমন হোসাইন, ঝিনাইদহঃ
মহেশপুর পৌরসভার পোস্ট অফিস পাড়ায় ভাড়া বাসায় মো. হাসান (২৩) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় কথিত প্ররোচনাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে মহেশপুর পুরাতন পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, বণিক কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ, হাসানের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে “যুব সমাজ রক্ষা করো, অপরাধীর বিচার করো” স্লোগান দেওয়া হয়।
বক্তারা হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন, মহেশপুর থানা ও বণিক কল্যাণ সমিতির কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পরিবারের দাবি, গত ১৩ আগস্ট দিবাগত রাতে মো. হাসান ভাড়া বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যুর জন্য তানিয়া নামে এক নারীকে দায়ী করে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
হাসানের বাবা মো. গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, তানিয়া একটি বিউটি পার্লারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
তার দাবি, বিভিন্ন যুবক ও বিত্তশালী ব্যক্তিকে সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং ব্ল্যাকমেইল করার মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওই নারী জড়িত। তার ছেলে হাসানও এমন প্রতারণার শিকার হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাসানের মা মোছা. জোহুরাই খাতুন বলেন, “আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি। আমার বুকের কষ্ট কোনো ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে যারা দায়ী, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
”মানববন্ধনে বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোমিন খান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফারুক বাবু, সাবেক কমিশনার সোহাগ খান, সীমা ক্লিনিকের মালিক আসাদুল ইসলাম, শরিফুল ইসলামসহ মহেশপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, হাসানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
কোনো ব্যক্তি দোষী হয়ে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা প্রমাণ করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে যুবসমাজকে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।