
চাটমোহরে তেনাচিড়া-কাটাখালী সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
মোঃ রাজিব হোসেন, পাবনাঃ
বৃষ্টির মধ্যে পিচ কার্পেটিং, নিম্নমানের উপকরণ ও তদারকির অভাবে এলাকাবাসীর ক্ষোভ
৭ জুন ২০২৬ পাবনার চাটমোহর উপজেলায় প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন তেনাচিড়া-কাটাখালী সড়ক প্রশস্তকরণ ও মেরামত প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে এজিং ভাঙ্গা গাছ কাটা না করে রাস্তা কার্পেটিং, নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার এবং বৃষ্টির মধ্যে পিচ ঢালাইয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে এজিং হেলে পড়েছে এবং ভেঙে গেছে। রাস্তার দুই পাশে গাছ রেখেই কার্পেটিং করায় গাছগুলো মরতে শুরু করেছে এবং সড়কের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় মান বজায় না রেখে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করে দ্রুত বিটুমিনের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয়: বৃষ্টির মধ্যে পিচ ঢালাই
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ মে (ঈদুল আজহার দু’দিন আগে) ঝুম বৃষ্টির মধ্যে সড়কের আধা কিলোমিটারেরও বেশি অংশে পিচ কার্পেটিং করা হয়। আবহাওয়ার অনুকূলতা না থাকা সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত তদারকি ছিল না। ফলে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সড়কটি শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। দীর্ঘদিনের দাবির পর সড়ক উন্নয়ন শুরু হলেও নির্মাণমান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি
সড়কের কাজ নিরপেক্ষ তদন্ত, ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একইসঙ্গে টেকসই ও মানসম্মত সড়ক নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ সিরাজুল ইসলাম মুঠোফোনে বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ এনামুল কবির বলেন, “কাজ চলমান আছে। সমস্যা হলে ঈদের পর দেখে ঠিক করে দেওয়া হবে। ঠিকাদারকে চাপ দিয়ে কাজে নামানো হয়েছে। জামানত আছে, প্রয়োজনে সারফেসিং ও সিলকোট করা হবে।”
বৃষ্টির মধ্যে কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কাজ শুরুর সময় বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল না। হঠাৎ বৃষ্টি হলে কী করা যায় ? এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (এক্সেন স্যার) অনুমতি নিয়েই কাজ হয়েছে।”
পাবনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আশা, কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রকল্পের মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।