
হিজলায় জেলেদের চাল আত্মসাতের ১ মাসেও মেলেনি তদন্ত প্রতিবেদন
হিজলা প্রতিনিধিঃ
বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল আত্মসাতের ঘটনার প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি তদন্ত প্রতিবেদন।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে প্রকৃত জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ৮০ কেজি চাল থেকে ২৫ কেজি করে রেখে দিয়েছে ঐ ওয়ার্ডে জেলে কার্ডের সংখ্যা ১০৪ জন স্থানীয়দের অভিযোগ, গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য এমদাদুল হক খোকন এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ওএমএস ডিলার মোহাম্মদ দুলাল সরদার, সহ কয়েক জনের অসৎ পরামর্শে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই চাল আত্মসাতের সাথে জড়িত।
ঘটনাটি জানতে পেরে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইলিয়াস শিকদার দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
সরেজমিনে তদন্তকালে অভিযুক্তদের চালসহ হাতেনাতে ধরা হয়।
পরবর্তীতে ৪ নং ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার দুলাল সরদারের গোডাউনে আত্মসাৎকৃত চালের সন্ধান মেলায় ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে গোডাউনটি সিলগালা করে দেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
কমিটিতে রয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা।
গত ৭ এপ্রিল তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও আজ ৩ মে পর্যন্ত দীর্ঘ সময়েও কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। চাল চুরির মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় প্রশাসনের এই ধীরগতিতে এলাকায় নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলছে। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের মুখের গ্রাস যারা কেড়ে নেয় তাদের বিচার পেতে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী জেলে।
প্রকাশ্য দিবালোকে চাল চুরির ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়ার পরও কোনো আইনি ফয়সালা না হওয়ায় স্থানীয় জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্তরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।,