
কুড়িগ্রামে মানবাধিকার কমিশন জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
মোঃ এনামুল হক বিপ্লব, কুড়িগ্রামঃ
কুড়িগ্রাম জেলা মানবাধিকার কমিশন সভাপতি মোঃ মিনহাজুল ইসলাম মিলন যেনো এক দুর্নীতির কারখানা নিয়ে অফিস খুলেছেন কুড়িগ্রাম শহরে।
এমন কোনো কাজ নেই যে তার দপ্তরে টাকা ছাড়া কাজ হয়।
বিবাহ বিচ্ছেদ,জমা-জমি এমনকি মামলা মোকদ্দমা নিয়ে নানা কৌশলে অসহায় ব্যক্তিদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের প্রতাভ চন্দ্র এর কাছ থেকে তার দুই মেয়ে নাবালক (বাল্য বিবাহ) দিয়ে ২০,০০০/-টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেন মিনহাজুল ইসলাম মিলন বলে জানান প্রতাভ চন্দ্র।
অতঃপর, সরোজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে জানা যায়, বালাকান্দীর সাত ভিটা গ্ৰামের মোছাঃ সুমাইয়া বেগম বলেন, আমার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটনা ব্যাপারে ওই মিনহাজুল ইসলাম মিলন আমার দেনমোহরের টাকা তার হাতে নেন কিন্তু বাকি ৬৫,০০০/-হাজার টাকা আটকে রাখে।কিন্তু আমার সেই পাওনা ৬৫,০০০/-হাজার টাকা এখন পর্যন্ত দিচ্ছে না এই মিনহাজুল ইসলাম মিলন।
মোছাঃ আকতারা বেগম বলেন , আমিও মিনহাজুল ইসলাম মিলনের কাছ থেকে আমার বিবাহ বিচ্ছেদের দেনমোহরের ২ লক্ষ্য ৫০ হাজার টাকা পাই কিন্তু কয়েক মাস হয়ে গেলো ও আমার দেনমোহরের টাকা না দিয়ে তালবাহনা করে নিয়ে বেরাচ্ছে।
আমি টাকা চাইতে গিলে নানান ধরনের সময় বাঁধিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে দুর্গাপুর ইউনিয়ন মানবাধিকার কমিশন সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস সহ প্রচার সম্পাদক কে আমি বিষয় টি অবহতো করি।
এ ব্যাপারে দূর্গাপূর ইউনিয়ন মানবাধিকার কমিশন সাধারণ সম্পাদক আঃ রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন।
মিনহাজুল ইসলাম মিলন এরকম অনেক গরিব দুঃখী মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আমরাও পেয়েছি এবং ঘটনাটি সত্যি বলে সাংবাদিকদের জানান।
তারা আরো বলেন, আমাদের মানবাধিকার কমিশন কুড়িগ্রাম জেলার সভাপতিকে এই ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে মিলন বলেন আপনারা আমার সংগঠনের সদস্য হয়ে আমার ব্যাপারে নাক গলাতে এসো না,,তা না হলে অফিসিয়ালি ব্যবস্থা গ্ৰহন করা সহ তোমাদের পদ রাখবো না।
এমনকি ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মোঃ মোক্তার হোসেনের কাছ থেকে সমাজ সেবা অফিস থেকে
লাইসেন্স করে দিবেন বলে ৫০,০০০/-হাজার টাকা নেন।
কিন্তু ওই মিলন এক টাকার কোনো কাজ করেনি বলে জানান মোক্তার হোসেন।
এদিকে দুর্গাপুর ইউনিয়ন মানবাধিকার কমিশন এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক আরো বলেন,
আমার স্যালক মোঃ ওমর ফারুক এর পারিবারিক মারামারির হওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট কোটে একটি Fir মামলার হয়েছে। তার জন্য ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক এর কাছে জেলা সভাপতি ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন তার মোবাইল ফোনে রেকর্ড ধারণ করা রয়েছে। এবং তা সাংবাদিকদের হাতে দেওয়া হয়েছে।
আমাদের দুর্গাপুর ইউনিয়নের মানবাধিকার কমিশন কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি, নির্বাহী সভাপতি, সংগঠনিক সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, দাবি করেন, আমাদের কাউকে অবগত না করিয়া এই একটি মিথ্যা নিউজ প্রকাশ করে। যাহা দুর্গাপুর ইউনিয়নের মানবাধিকার কমিশন সদস্যদের মান ক্ষুন্ন হয়েছে।
এ ব্যাপারে মিনহাজুল ইসলাম মিলনের কাছে জানতে এবং প্রতিবাদ করতে চাইলে তাৎক্ষণিক ভাবে দুর্গাপুর ইউনিয়ন মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক, আব্দুর রাজ্জাক সাংগঠনিক সম্পাদক, ফেরদৌস ওহ প্রচার সম্পাদক এরশাদুল হক সহ আমাদের তিন জনকে দুর্গাপুর ইউনিয়ন পদ থেকে বাতিল করেন।
এ ব্যাপারে আমাদের মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে সকল তথ্য প্রমাণ ও লিখিত আবেদন পাঠিয়ে দিয়েছি এবং সেই সাথে এই মিনহাজুল ইসলাম মিলনের এই অনিয়ম দুর্নীতির সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।