লাকসামে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের কয়েক ঘণ্টা পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার !

আইন আদালত কুমিল্লা চট্টগ্রাম জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি দুর্ঘটনা সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

লাকসামে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের কয়েক ঘণ্টা পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার !

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
বিদায় পৃথিবীর, বিদায় আমার প্রিয় স্ত্রী, ভালো থেকো সুখে থাকো তোমরা আমার সাথে যেইটা করছো তার ফল একদিন তোমরা ঠিকই পাবা।আমার মায়ের বুক খালি করতেছো তোমরা একদিন আল্লাহ্ তোমার এবং তোমার মায়ের বুক খালি করবে, আল্লাহ্ ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না কথা টা মনে রেখো। আমার জীবনটা নিয়ে এভাবে পুতুল না খেললেও পারতা। তোমার জন্য কি না করছি আমি, মা বাবা ভাই-বোন চৌদ্দগুষ্টি সবার থেকে বঞ্চিত হয়েছি শুধুমাত্র তোমার জন্য।
এখন দিন শেষে তুমিও আমাকে ছেড়ে চলে গেলে, যার আশায় আমাকে ছেড়ে গেলা সেও তোমাকে এভাবে ছুড়ে ফেলে দেবে একদিন ইনশাআল্লাহ্। একটা সময় আমার কথা তোমার খুব বেশি মনে পড়বে, তখন আফসোস করবা আর বলবা তার সাথে এমনটা করা আমার ঠিক হয় নাই। আমার মত এমন ভালো কেউ তোমায় বাসবে না। একের পর এক দুই বিয়ে করছো দুজনকে ছেড়ে দিলা, এখন তৃতীয় বিয়ে করবা সে তোমাকে ব্যবহার করবে কিন্তু জীবনসঙ্গী হিসেবে গুরুত্ব দিবে না কথা টা এখন না বুঝতে পারলে ও সময় মতো ঠিকই বুঝবা।
আমায় খুব বেশি মনে পড়লে আমার কবরের কাছে গিয়ে একটু দেখে এসো। আর পারলে কালকে থেকে ৪৫ দিন সাদা কাপড় পরিও এখনো কিন্তু আমাদের ডিভোর্স হয় নাই তুমি এখনো আমার স্ত্রী।
স্বামী মারা গেলে স্ত্রী ৪৫ দিন সাদা কাপড় পড়তে হয়, এই নিয়মটা অন্তত পক্ষে মানীয়। খুব কষ্ট হচ্ছে কথাগুলো লিখতে আর পারতেছি না নিজেকে কন্ট্রোল রাখতে।
মানুষ মৃত্যুর আগে কখনো মিথ্যা বলে না তুমি আর তোমার মা আমার সাথে যেটা করছো এটা কখনোই ভালো কর নাই। আমার সাথে এ রকম বেইমানি না করলেও পারতা। সর্বশেষ একটা কথাই বলবো-আল্লাহ হাফেজ ভালো থেকো।
ইস্রাফিল রাহাত নামের ফেসবুক আইডিতে আবেগঘন এ স্ট্যাটাস দিয়েছেন কুমিল্লার লাকসামের ইস্রাফিল মজুমদার রাহাত (১৯) নামের এক যুবক।
ফেসবুকে স্ট্যাটাসের কয়েক ঘণ্টা পর ওই যুবকের মরদেহ লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে ! তার মৃত্যুর ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা হত্যা এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
জানা গেছে, কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় ইস্রাফিল রাহাত মজুমদার (১৯)-এর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
 আজ সোমবার ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাউজিং এস্টেট সংলগ্ন এলাকায়, তার শ্বশুরবাড়ির পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।
স্থানীয়দের সহায়তায় শাশুড়ি কুলসুম বেগম দ্রুত তাকে উদ্ধার করে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
নিহত রাহাত লাকসাম উপজেলার উত্তর দা ইউনিয়নের কান্দিরপাড় এলাকার দুলাল হোসেন ও জোছনা বেগমের ছেলে। তিনি শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতেন।
লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাজিয়া বিনতে আলম বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
পরে পুলিশকে জানানো হলে তারা লাশের দায়িত্ব নেয়।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাহাত ইউনিটি ট্রমা হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সেখানেই অন্তরা আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনের বয়স প্রায় দুই বছর। অন্তরার আগের সংসারের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যাকে রাহাত নিজের সন্তানের স্বীকৃতি দিয়ে ছিলেন।
এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, ওই নারীকে ঘিরে অতীতেও একটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল—এক যুবক জংশন এলাকায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারান।
ঘটনার আগে রাহাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ত্রী অন্তরা আক্তারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে পোস্ট দেন এবং আত্মহত্যার ইঙ্গিতও দেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতের মা জোছনা বেগম চট্টগ্রাম থেকে এসে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ছেলে বউ পাগল তারাই আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় রাহাতের মা জোছনা বেগম বাদী হয়ে লাকসাম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ মাকসুদ আহমেদ জানান, “লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ছেলের মা বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *