
বুড়িচং নিমসার বাজারে সওজ’র জায়গা
দখল ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ
সৌরভ মাহমুদ হারুন, বুড়িচংঃ
দেশের অন্যতম বৃহত্তম সজিবাজার কুমিল্লার নিমসারে নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনায় প্রতিদিনই ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় ঘর নির্মান করে দখল বানিজ্য, মহাসড়কের পাশ ঘেষে ট্রাক কাভার্ডভ্যান থেকে মালামাল লোডিং-আনলোডিং করানোর ফলে বাজার এলাকাজুড়ে সৃষ্ট হচ্ছে থেমে থেমে যানজট।
কাগজে কলমে নিরাপত্তা রক্ষায় লোকবল থাকলেও বাস্তবে নেই কোন তৎপরতা। তবে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ে ব্যস্ত ইজারাদারের লোকজন।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার এলাকায় বাজারটির অবস্থান। বিগত শতাব্দির আশির দশকের মাঝামাঝি বাজারটির ব্যাপকতা বাড়তে থাকে। একসময় স্থানীয় মানুষ আশপাশের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যে দৈনন্দিন কেনাকাটায় বাজারে ভীড় করলেও কালের বিবর্তনে বাজারের পরিধি যেমন বাড়ে তেমনি সারাদেশ থেকে পাইকার, মধ্যস্বত্ত্বভোগীসহ স্থানীয় কৃষকরা ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মিনি ট্রাক, ট্রাক্টর, অটোভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজি অটোরিক্সা, রিক্সা, রিক্সাভ্যানে করে পণ্য নিয়ে আসা শুরু করে প্রতিদিন বাজারে।
সন্ধ্যা রাত থেকেই বাজারের ব্যস্ততা বাড়তে থাকে আবার সকালে বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাজারের ব্যস্ততা কমে যায়। মানুষের প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সব্জির কেনা-বেচা হয়। এখন নিত্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকার শাক-সব্জি, মৌসুমী ও বারোমাসী ফলসহ ব্যক্তি জীবনের সকল জিনিস পাওয়া যায় বাজারটিতে পাইকার এবং খুচরা দামে। তবে বাজারটিতে মূলত ক্রেতা-বিক্রেতার ভীড় হয় কুমিল্লা ও আশপাশের ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, চট্টগ্রামসহ আশপাশের জেলার খুচরাবাজারগুলোর ক্রেতাদের। যারা এখান থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নিয়ে সেখানকার হাটবাজাওে বিক্রয় করে।
বাজারটিতে মূলত দু’দফায় পাইকারদের হাত বদল হয়। একবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা পণ্য নিয়ে আড়তে জমা করে, কখনোবা ট্রাক থেকেই আবারো অন্য ট্রাকে কিনে নিয়ে পণ্য বোঝাই করছে স্থানীয় পাইকাররা।
যা পরবর্তীতে স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিদিন বাজারটিতে শত শত যানবাহনের সাথে হাজার হাজার ক্রেতাবিক্রেতার ভীড় হয়। এই অবস্থায় প্রতিদিনই বাজারে বাড়ছে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা।
বুড়িচং উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত জায়গার বাইরেও স্থানীয় বেশ কিছু ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় বাজারটির কেনা-বেচা। কিন্তু এরবাইওে দীর্ঘদিন ধওে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র মহাসড়কের দক্ষিণ পাশের বিশাল জায়গা দখল করে শত শত দোকান-ঘর, আড়ৎসহ বিভিন্ন শ্রেনীর ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। আর সড়ক ও জনপথ বিভাগের দখলী জায়গাজুড়েই মহাসড়কের পাশে যানবাহন থামিয়ে অসংখ্য ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন উল্টোপথে প্রবেশ করে মাল লোডিং আনলোডিং করতে।
এতে জাতীয় প্রধান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী অংশজুড়ে প্রতিদিন মধ্যরাত থেকে বেলা ৮/৯টা পর্যন্ত থেমে থেমে যানজন সৃষ্টি হচ্ছে।
দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে দ্রুতগামী গাড়িগুলো ধীর গতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে সকালের দিকে মহাসড়কের এই অংশটিতে সিএনজি অটোরিক্সা, ইজিবাইক, রিক্সা, অটোভ্যান, নসিমনসহ ছোট যানবাহনের অত্যধিক চাপ বেড়ে যায়। পাশাপাশি ক্রেতারা সড়ক পথে হাটা-চলা করায় যানবাহনের চালকেদেও দুর্ভোগ চরমে উঠে। আর এমনি অবস্থায় গত
৬ এপ্রিল ২০২৬ ইং সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাদের নিজস্ব জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। তবে, অভিযানের পরপরই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট আবারো উচ্ছেদকৃত জায়গায় দোকান-পাট নির্মান করে। প্রতিদিনই এঅবস্থায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হিমসিম খেতে হয় পুলিশদের। এমনিভাবে যানজন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে গত ৯ জুন ২০২৬ ইং পুলিশ তৎপর হলে ইজিবাইকের একদল বিক্ষুব্ধ চালক দলবদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়ে বেশ কিছু পুলিশ সদস্যকে প্রহারসহ পুলিশের একটি পিকআপ ভাঙ্গচুর করে। এছাড়াও পূবে-পশ্চিমে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের পাশে থাকা বাজারটিতে নেই কোন ডাষ্টবিন, টয়লেট সুবিধা।
ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার কেজি নষ্ট হওয়া তরিতরকারির উচ্ছিষ্ট, আবর্জনার ঠাই হচ্ছে মহাসড়কের পাশ এবং রোড ডিভাইডারের (সড়ক দ্বীপ) উপর। একসময় সেগুলো পঁচে-গলে ছড়িয়ে পড়ছে সড়কের উপর। একইভাবে টয়লেট সুবিধা না থাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ কখনো সড়ক দ্বীপের মাঝখানে, কখনোবা মহাসড়কের পাশে মল-মূত্র ত্যাগ করছে। একসময় সেগুলোও ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তাজুড়ে।
পঁচা-আবর্জনার দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে বাড়ছে বায়ুদূষণ। এছাড়া বাজাওে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা এসব দূষিত বর্জ্যেও উপর হাটা-চলা কওে চরম অসুবিধার সম্মুখিন হচ্ছে। বাজারের সুষ্ঠু তদারকি না থাকায় জনগণের নিরাপত্তায় মহাসড়কের মাঝামাঝি নির্মান করা প্রতিরক্ষা ফেন্সিংগুলোও ভেঙ্গে ফেলে সড়কের উপর দিয়েই হাটাচলা করছে হাজার হাজার মানুষ।
এতে যেকোন সময় গাড়ি চাপায় হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। এদিকে বাজাওে স্বাভাবিক মনিটরিং না থাকায় বেশ কিছুস্থানের ‘বে’গুলো ময়লা আবর্জনা জমে গ্রুপ হয়ে গেছে। মহাসড়কে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্মিত ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে গেছে দীর্ঘদিন ধরে।
এতে সামান্য বৃষ্টিতে বাজাওে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এই যখন অবস্থা, তখন উপজেলা প্রশাসন বা বাজার কমিটি কেউই দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসছে না। ফলে চরম দুর্ভোগে প্রতিদিন হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতা বাজারে ক্রয়-বিক্রয় করে আবার ফিরে যাচ্ছে।
বাজারের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে জানতে চাইলে বাজারের ইজারাদার সফিকুল ইসলাম ভূইয়া বলেন,আমরা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি। বাজারের ময়লার ফেলার জন্য একটা নিদিষ্ট জায়গায় করার দরকার।
কুমিল্লা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন আমরা বার বার বাজার উচ্ছেদ অভিযান চালাব আর আবার দখল করবে। আমাদের আর কিছু করার নেই। সরকারি জায়গা দখল করার বিষয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে, বিবেক খাটাতে হবে। ময়লায় সড়ক ক্ষতি গ্রস্থের বিষয়ে বলেন এজন্য বাজার কতৃপক্ষের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি দেখব।