শেখ হাসিনার জন্য শুনেছি ফাঁসির দড়ি অর্ডার দিয়েছে: নুরুল ইসলাম সাদ্দাম

কুমিল্লা চট্টগ্রাম জাতীয় রাজনীতি শিক্ষা সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

শেখ হাসিনার জন্য শুনেছি ফাঁসির দড়ি অর্ডার দিয়েছে: নুরুল ইসলাম সাদ্দাম

 

মানিক ভূঁইয়া, ​নোয়াখালীঃ

নোয়াখালী কলেজ অনার্স ১ম বর্ষ ২০২৫-২০২৬ সেশনের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, “তাকে আসতে হবে, সে বাংলাদেশে যে গণহত্যা চালিয়েছে, তার বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।”

​তিনি আরও বলেন, “আমরা তাকে আনার জন্য সরকারকে বলছি। ওখানে বসে বিষধর সাপের মতো উঁকিঝুঁকি মারে! যখন দেখে তাকে নিয়ে দুই-একজন আলোচনা করছে না, হঠাৎ করে একটা ভিডিও ছেড়ে দেয়। এই তো সামনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুন আসছে; তো ২৩ জুন একজনের খোঁজ নেই, মিছিল-মিটিং করার লোক নেই।”

​শিবির সভাপতি বলেন, “‘ডিসেম্বর আসছে’—কোন ডিসেম্বর, সেটা বলেনি। অথবা কেয়ামত পর্যন্ত সেই ডিসেম্বর নাও আসতে পারে। আমরা চাই তার কথা অনুযায়ী ডিসেম্বর আসুক, দেশের জনগণ বিমানবন্দরে তাকে রিসিভ করবে, সংবর্ধনা দেবে। এরপর কারাগার তার জন্য প্রস্তুত আছে। সরকার—শুনেছি ফাঁসির দড়ি অর্ডার দিয়েছে। তাকে আসতেই হবে।”

​সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) সকালে শহরের একটি বেসরকারি কনভেনশন হলে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

​তিনি অভিযোগ করে বলেন, “জুলাই-পরবর্তী সময়ে আমাদের দেশের প্রশাসনগুলোতে নগ্ন দলীয়করণ চলছে! সাদা দল না করলে কোনো জায়গায় ভিসি হতে পারবেন না? দুনিয়াতে আর কোনো শিক্ষক নেই যাদের কোয়ালিটি আছে? শুধু একমাত্র কোয়ালিটি হচ্ছে ছাত্রদল-বিএনপি করতে হবে—এগুলোকে ধিক্কার জানাই। নির্বাচন না দিয়ে তারা নিজেদের প্রশাসক বসিয়েছেন; এই নতুন বন্দোবস্ত আমরা চাইনি। ছাত্ররা এ জন্য জীবন দেয়নি।”

​ছাত্র সংসদ ও ক্যাম্পাস রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন দিলে কী হয়, সেগুলো আপনারা ডাকসু, চাকসু, রাকসুতে দেখেছেন; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে পারছেন। সেখানে কোনো হল-বাণিজ্য, ভর্তি-বাণিজ্য, সিট দখল চলে না; চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি চলে না। গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবার ব্যবসাসহ সবকিছু যখন বন্ধ হয়ে গেছে, তখন তাদের নেতার মিছিল করার জন্য গাঁজাখোর টোকাইদের ৩০০-৫০০ টাকা দিয়ে, যারা অছাত্র তাদের দিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল-মিটিং করাতে হয়; কারণ নেতার নেতৃত্ব জাহির করতে হবে।”

​তিনি আরও বলেন, “তারা বড় প্রোগ্রাম করতে পারে না, অর্থের সংকুলান নেই। নিজের পকেটের টাকা দিয়ে কেউ রাজনীতি করে? এ জাতীয় নবীনবরণ হোক কিংবা ক্যারিয়ার গাইডলাইন—এসব প্রোগ্রাম তারা কোনো দিন করতে পারবে না। কিছু কিছু জায়গায় তারা প্রোগ্রাম করে, যেখানে ৪ টাকা খরচ করে ৫ টাকা পকেটে ঢুকাবে। এটা হচ্ছে রাজনীতির ‘ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’। এই বিজনেসটা যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন রাজনীতি বা চেতনার কথা আর কারও মাথায় ঢোকে না, কেউ এটা করতেও চায় না।”

​অনুষ্ঠানে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার, নোয়াখালী শহর সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাহবুব, শহর সেক্রেটারি মো. বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী কলেজ সভাপতি আবদুল কাদের আল আমিন, সেক্রেটারি মো. ইব্রাহিম প্রমুখ।


শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *