
বহিষ্কারাদেশের মধ্যেও নেতাকর্মীদের
সঙ্গে ছাত্রদল নেতার যোগাযোগ
মোঃ হুমায়ুন কবির, গৌরীপুরঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মূলনীতি ‘শিক্ষা, ঐক্য, প্রগতি’কে ধারণ করে রাজনীতি করে আসা গৌরীপুর সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল করিম বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের ত্যাগ ও অবদান বিবেচনা করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
রেজাউল করিম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছাত্রজীবন থেকেই সংগঠনের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণের নেতৃত্বে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে ভূমিকা রাখেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ৯ তারিখ গৌরীপুরে একটি মহিলা সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত ছাড়াই বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর মধ্যে ছাত্রদলের ১৯ জন নেতাকর্মীকেও বহিষ্কার করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়াও যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিকদল ও ছাত্রদলের আরও নেতাকর্মী বহিষ্কারের আওতায় পড়েছেন বলে জানান তিনি।
রেজাউল করিম বলেন, “আমি দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে সবসময় সংগঠনের পাশে ছিলাম।
বহিষ্কারাদেশের সময়টা কষ্টের হলেও দল থেকে দূরে সরে যাইনি। কাজের ফাঁকে নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের খোঁজখবর রাখছি।”
তিনি জানান, দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়াশোনা ও রাজনীতি চালিয়ে গেছেন। তার বাবা গৌরীপুর আরকে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯ সালে মেট্রিক এবং ১৯৭১ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তিনি ডিগ্রি বিএসএস শিক্ষা ও ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
রেজাউল করিম আরও বলেন, ২৪ জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। গৌরীপুর সরকারি কলেজ থেকে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে আন্দোলনে অংশ নেওয়া, হারুন পার্কে অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি ও অন্যান্য ছাত্রনেতারা ভূমিকা রাখেন। এসব আন্দোলনে হামলা ও মামলার শিকার হওয়ার কথাও জানান তিনি।
তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক কারণে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। গৌরীপুর থেকে শ্যামগঞ্জ যাওয়ার পথে হামলার ঘটনাসহ বিভিন্ন সময়ের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। সাংগঠনিক ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক ঘটনা তিনি প্রকাশ করেননি বলেও জানান।
রেজাউল করিম বলেন, “দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। তাই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে আবারও সংগঠনের কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ চাই।”
এ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ত্যাগী ও মাঠের নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।