
যমুনার ভাঙ্গনে দুই সপ্তাহে
২’শ মিটার নদীগর্ভে বিলীন
মোঃ আনোয়ার হোসেন, বগুড়াঃ
বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী অংশে গত প্রায় দুই সপ্তাহে প্রায় ২০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান এলাকার তীররক্ষা কাঠামোর মাঝামাঝি অংশে ভাঙন দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। ভাঙন ঠেকাতে পাউবো ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নদীর পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
স্থানীয়দের দাবি, নদীর তীরঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তিত হয়েছে এবং ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শহড়াবাড়ি স্পারের উজানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে জিও টিউব ও জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে ঝুঁকি কিছুটা কমলেও এলাকা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এর আগে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং দীর্ঘমেয়াদি ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম দফায় এ এলাকায় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেয়। তখন শহড়াবাড়ি ঘাটের কয়েকটি দোকান ও বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। পরে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও প্রায় ১৪ দিন আগে আবার নতুন করে ভাঙন শুরু হয়।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, অতীতের বিভিন্ন সময়ে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের বৈশাখী চর, রাঁধানগর, বথুয়ারভিটা, নিউ সারিয়াকান্দি, আটারচর, পুকুরিয়া, ভুতবাড়ি ও কৈয়াগাড়িসহ একাধিক জনপদ যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে। এতে হাজারো পরিবার বসতভিটা ও আবাদি জমি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবল স্রোতের চাপে তীররক্ষা কাঠামোর কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই ধরনের সংকট তৈরি হয়। তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, বরং ভাঙন শুরু হওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
বালু উত্তোলনের অভিযোগ প্রসঙ্গে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন,অবৈধ বালু উত্তলনে এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্পার এলাকায় প্রয়োজনীয় মেরামত ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।