
রামগতিতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত-১০
হাবিবুর রহমান, রামগতিঃ
লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়ন এর ৯নং ওয়ার্ডের চার রাস্তার মোড়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় এক পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,কিছু ছেলে মেয়ে মিলে নদীর পাড়ে ঘুরতে গিয়ে ছবি তোলেন,আর সেই ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়,আর সেই বিরোধের নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এলাকায় একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, সালিশি বৈঠকে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান না হয়ে বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে সালিশ চলাকালীন সময়েই উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি নেতা আলম হাওলাদার তার সমর্থকদের নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, দা, কুড়াল, সাবল ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এতে ফারুক, সোহেল, রুবেল, ইসরাফিল, আরিফ, খোকন, ইউছুফ, রিপন, শরীফ ও জাবেদসহ ১০ থেকে ১২ জন গুরুতর আহত হন।
হামলার সময় ঘটনাস্থলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নোয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্বজনরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— আলম হাওলাদার, মেজু, জুয়েল, হুমায়ুন, শান্ত, রিয়াজ, কামাল দোকানদার, জাবেদ দোকানদার ও মন্নু হাওলাদারসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সালিশি বৈঠকের মতো সামাজিক মীমাংসার আয়োজনকে কেন্দ্র করে এমন সহিংস ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।