
হাড ভাঙ্গার চিকিৎসা নিতে আসা শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন-হাসপাতাল বন্ধ
লাকসাম প্রতিনিধিঃ
হাড ভাঙ্গার চিকিৎসা নিতে আসা কুমিল্লার লাকসামে নুরানী মাদ্রাসার ৩য় জামাতের এক ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ নাজিয়া বিনতে আলমকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।
আজ শনিবার বিকেলে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ নাজিয়া বিনতে আলম উপস্থিত থেকে হাসপাতালের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায় লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ নাজিয়া বিনতে আলম, মূরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোপেডিক সার্জন ডাঃ সুমন চন্দ্র দত্ত, কুমিল্লা জেনারেল হসপিটালের এমও (এনেস্থেশিয়া) ডাঃ আব্দুল্লাহ আল কাওসার কে সদস্য করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে লাকসাম
উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের কেমতলী নুরানীয়া মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসার ৩য় জামাতের এক ছাত্র আবদুল্লাহ আল হোসাইন খেলতে গিয়ে হাতে ব্যাথা পায়। চিকিৎসার জন্য লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকার ইউনিটি ট্টমা এন্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউনিটি ট্টমা এন্ড জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন। নুরানীয়া মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসার ৩য় জামাতের ছাত্র আবদুল্লাহ আল হোসাইন মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে ৩ লাখ টাকা রফা দফার চেষ্টা করে।
স্বজনদের দাবি ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় এ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে জানার পর অভিযুক্ত চিকিৎসক কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।
নিহত ওই ছাত্রের নাম আবদুল্লাহ আল হোসাইন (৮)। সে উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের কেমতলী গ্রামের মোঃ হারুন রশিদ ও মাতা মোসাঃ নাছিমা বেগমের একমাত্র ছেলে। সে একই এলাকার কেমতলী নুরানীয়া মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসার ৩ শ্রেনীর ছাত্র।
ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে শত শত লোক
হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং অভিযুক্ত ডাক্তারের বিচার দাবি করে।
সংবাদ পেয়ে লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্বজনদের দাবি গত বুধবার দুপুরে মাদ্রাসা ছাত্র আবদুল্লাহ আল হোসাইন খেলতে গিয়ে হাতে ব্যাথা পায়। চিকিৎসার জন্য লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকার ইউনিটি ট্টমা এন্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বজনদের না জানিয়ে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অজ্ঞানের ইনজেকশন পুশ করে।
স্বজনরা আরো জানায় দুপুরে মাদ্রাসা ছাত্রকে অপারেশন থিয়েটারে রাখার পর জ্ঞান না ফেরায় তাকে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে কুমিল্লায় স্থানান্তর করে।
কুমিল্লা মডার্ন হসপিটালে নেয়া হলে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে। তারা আরো জানায় চিকিৎসাধীন মাদ্রাসা ছাত্র আরো কয়েক ঘণ্টা আগেই মারা গেছে।
মাদ্রাসা ছাত্রের লাশ লাকসাম ইউনিটি ট্টমা এন্ড জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় আসা মাত্র ওই ছাত্রের আত্মীয় স্বজন ও আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে অভিযুক্ত ডাক্তারের বিচার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ শুরু করে।
অবস্থা বেগতিক দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানা খবর দেয়। থানা পুলিশের এসআই নিয়াজের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে নিহত মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যুতে পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। একমাত্র ছেলের মৃত্যুর সংবাদে মা নাছিমা বেগমের কান্নায় আকাশ-বাতাশ ভারি হয়ে ওঠে।
ছেলের পিতা হারুন রশিদ কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় আমার একমাত্র ছেলে মারা গিয়েছে। তারা আমার ছেলেকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অজ্ঞানের ইনজেকশন পুশ করে। কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও তার জ্ঞান না ফেরায় উন্নত চিকিৎসার কথা বলে কৌশলে কুমিল্লায় স্থানান্তর করে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।