
চাবুক দিয়ে যুবক কে আঘাতের নৈপত্যে বিকৃত যৌনাচার-নারীসহ আটক-২
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বসুন্ধরায় বিডিএসএম-এর নামে বিকৃত যৌনাচারের ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনার নেপথ্যে ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইল চক্র সক্রিয় রয়েছে।
জানা যায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ‘বিডিএসএম’ চর্চার আড়ালে বিকৃত যৌনাচার এবং পুরুষদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক নারী চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।
গত বুধবার দিবাগত রাতে ভাটারা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই চক্রের দুই নারী সদস্যকে আটক করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত আরো জানা যায়,
সম্প্রতি ইন্টারনেটে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়—একটি বদ্ধ ঘরে দুই নারী মিলে এক পুরুষকে চাবুক দিয়ে আঘাত করছেন এবং অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। এরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাটারা থানা পুলিশ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়।
অভিযানে ভিডিওতে থাকা সেই দুই নারীকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়। ওই ফ্ল্যাট থেকে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। নির্যাতনে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের চামড়ার চাবুক। বিডিএসএম কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত অদ্ভুত সব পোশাক ও সরঞ্জাম। ভারী বুট ও হাই-হিল জুতা, যা দিয়ে ভুক্তভোগীদের আঘাত করা হতো। যৌন উত্তেজক বিভিন্ন সামগ্রী।
পুলিশের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত নারীরা জানায় তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করে আস ছিলেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী এই চক্রের কাজের ধরন ছিল অনলাইন ফাঁদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া আইডি ও গ্রুপ ব্যবহার করে উচ্চবিত্ত পুরুষদের টার্গেট করা হতো।
বিডিএসএম-এর আড়ালে পাশ্চাত্যের বিকৃত সংস্কৃতি ‘বিডিএসএম’-এর নামে তাদের এই ফ্ল্যাটে আমন্ত্রণ জানানো হতো।
ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইলে তথাকথিত এই চর্চার আড়ালে সুকৌশলে গোপন ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করা হতো।
পরবর্তীতে সেই ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত এই চক্র। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে অনেক ক্ষেত্রে সম্মতির বাইরেও অতিরিক্ত শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো, যা মূলত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পর্যায়ে পড়ে।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এই চক্রের সাথে আরও কারা জড়িত এবং তারা কতজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।”
রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলোতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুযোগ নিয়ে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে পুলিশি নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি ৩০ এপ্রিল ২০২৫ সালের হলেও ভিডিওটি সম্প্রতি ভাইরাল হয়।