গৌরীপুরে ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

আইন আদালত জাতীয় ময়মনসিংহ রাজনীতি সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

গৌরীপুরে ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

হুমায়ূন কবির, গৌরীপুরঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে মারধর, রক্তাক্ত জখম, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদা দাবি এবং ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডা. আমান উল্লাহসহ তিনজনের বিরুদ্ধে।
গত রবিবার (১ মার্চ) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গৌরীপুর পৌরসভার হারুন পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সেলিম মিয়া (৩৭) বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— হারুন পার্ক পূর্ব লাইন এলাকার মো. ডা. আমান উল্লাহ (৩৮), নয়াপাড়ার মো. শাহীন মুন্সি (৪৫) এবং কচিকাঁচা এলাকার বিজয় দাস (২৪)।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সেলিম মিয়া গৌরীপুর পাট বাজার মোড়ে ‘মাশ-আল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তার ওয়ার্কশপে শামীম হোসেন ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ‘সাইলেজ চপার’ মেশিন তৈরির অর্ডার দেন এবং ২ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় টাকার স্লিপ ছাড়াই মেশিনটি তাদের কাছে হস্তান্তরের জন্য সেলিম মিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে আস ছিলেন।
গত রবিবার রাতে ৩ নম্বর বিবাদী বিজয় দাস কৌশলে সেলিম মিয়াকে হারুন পার্কের সামনে ১ নম্বর বিবাদীর চেম্বারে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পুনরায় স্লিপ ছাড়া মেশিন হস্তান্তরের দাবি জানানো হলে সেলিম মিয়া অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা তাকে জাপটে ধরে মারধর করেন।
এ সময় ২ নম্বর বিবাদী শাহীন মুন্সি সেলিম মিয়ার বাম চোখের ওপর ঘুষি মারলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন।
সেলিম মিয়া অভিযোগ করেন, তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক চেম্বারের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে ৩০০ টাকা মূল্যের একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অভিযুক্তরা হুমকি দেন, মেশিন হস্তান্তর না করলে ওই স্ট্যাম্প ব্যবহার করে টাকা আদায় করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার পর লাশ গুম করারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগী সেলিম মিয়া জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিজের জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে শামীম হোসেন বলেন, “আমি মেশিনের অর্ডার দিয়ে ২ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেছি এবং রসিদও নিয়েছি। বাকি ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করে মেশিনটি নেওয়ার কথা রয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে বর্তমানে বাকি টাকা পরিশোধ করতে পারছি না।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলে ডা. আমান উল্লাহ প্রথমে কল রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এবং পরবর্তীতে ফোন বন্ধ রাখেন। তার অন্য নম্বরে কল করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
মো. শাহীন মুন্সি বলেন, “গত বছর আমি মসজিদে এতেকাফে ছিলাম। তখন সেলিম ডা. আমানের কাছে টাকা চাইলে আমান আমার কথা ছাড়া টাকা দেবেন না বলে জানায়। পরে সেলিম আমার কাছে এলে আমি আমানকে ফোন করে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলি।”
এ বিষয়ে সালাহ উদ্দিন করিম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), গৌরীপুর থানা বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তের দায়িত্ব এসআই মাসুদকে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *