
মনোহরগঞ্জে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ঠিকাদারের নিকট চাঁদা দাবীর অভিযোগ
কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে আরিফুল ইসলাম নামে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবীর অভিযোগ করেছেন আবু ইউসুফ নামে স্থানীয় এক ঠিকাদার।
গত শুক্রবার(২৭/০২/২৬ ইং) ভোক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করেন মনোহরগঞ্জ থাকা অফিসার ইনচার্জ বরাবর।
অভিযোগে উল্লেখিত আরিফ উপজেলার দিশাবন্দ গ্রামের মৃত মীর হোসেনের ছেলে।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন সরকারী বিধি মোতাবেক উপজেলার লক্ষণপুর বাজারে একটি ড্রেনের কাজ পান, যাবতীয় মালামাল নিয়ে কাজ শুরু করলে ঐ যুবদল নেতা উনার কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে।
সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বিল তুলে যাওয়ার পথে আরিফ তার সঙ্গীয় মাহফুজ, পিতা-নুরু মিয়া, জহির, পিতা-জাফর, আনাছ, পিতা-গিয়াস উদ্দিন, ফারুক, পিতা-তাহের মিয়া, লোকমান, পিতা-অজ্ঞাত সর্ব সাং দিশাবন্দ দের নিয়ে আমার রাস্তা অবরোধ করে সর্বশেষ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তখনও আমি অপারগতা প্রকাশ করলে আমাকে গালিগালাজ করে এক পর্যায়ে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়, পরে উপস্থিত স্বাক্ষীগণ আমাকে তুলে নিরাপদে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। এরপর থেকে সে আমাকে এবং আমার ছেলেকে হুমকি দিয়ে আসছে চাঁদা না দিলে আমাদের কে দেখে নিবে, এমতাবস্থায় আমরা নিরাপত্তা হীনতায় আছি। বিষয়টি উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের অবহিত করে কোন প্রতিকার না পেয়ে সর্বশেষ আইনের সরণাপন্ন হই।
এই বিষয়ে দিশাবন্দ গ্রামের জনৈক ব্যক্তি জানান, এই ছেলেকে চুরির দায়ে গাছের সাথে বেঁধে রেখে বিচার শালিশের মাধ্যমে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়ে ছিলো, ৫ আগস্টের পর সে এলাকায় ঢুকে আবার বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, থানার দালালী, বিচার শালিশের নামে মানুষকে হয়রানি, মব সৃষ্টি করে উপজেলা প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি সহ অনেক অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, আরিফসহ তার সঙ্গীয়রা ৫ আগস্ট পরবর্তী বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েন।
উপজেলা যুবদল নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর নেতৃত্বে খোদাই ভিটায় বিএনপির দলীয় অফিস নিয়ে সাইনবোর্ড লাগিয়ে নিজেদের নেতা দাবি করেন। আগস্ট পূর্ববর্তী সময়ে এরা বেশিরভাগ অটোরিকশা, সিএজি চালক, দিনমজুর ও ভবঘুরে ছিলো। এখন তারা নেতা বনে গেছেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ইলিয়াছ পাটওয়ারী জানান, চাঁদাবাজির ঘটনা আমার জানা নেই। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রহমত উল্লাহ জিকু বলেন, আমি তাকে ব্যক্তিগত ভাবে ছিনি। যুবদলের সদস্য কি না তা জানি না।
মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মোঃ শাহীনুর ইসলাম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী উভয় পক্ষকে থানায় আসতে বলা হয়েছে।