
সুন্দরগঞ্জে ভূমিদস্যু কর্তৃক সাংবাদিকের স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ !
আবু বকর ছিদ্দিক, গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটী ইউনিয়নের উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের মৃত ইব্রাহিম আলীর ছেলে সাংবাদিকের নিজ বাড়িতেই স্ত্রীকে পরিকল্পিত হত্যার চেষ্টা করে স্বামী-স্ত্রী।
এরা হলো সাংবাদিকের ছোট ভাই আল-আমীন ও তার স্ত্রী শারমিন খাতুন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক বাদী হয়ে থানায় এজাহার দাখিল করেছেন।
জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি দিনগত সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আল-আমীন ও তার স্ত্রী মিলে ধারালো ছোরা ও রশি নিয়ে একা বাড়িতে থাকা সাংবাদিকের স্ত্রী হালিমা বেগমকে পরিকল্পিতভািঃবে হত্যার চেষ্টা চালায়।
স্ত্রীকে হত্যা করে সে হত্যার দায় সাংবাদিকের উপর ফেলানোর পরিকল্পনার কথা আল-আমীন প্রকাশ করায় হালিমা বেগম এক ঘরেই দরজাবদ্ধ থাকে।
সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীদ্বয় সাংবাদিকের ঘরে ঢুকতে না পারলেও আল-আমীন একাধিকবার হালিমার বাবা ও ভাইকে মোবাইলফোনে কলে জানায় যে, ‘বক্কর তোমার বেটিক (হালিমাকে) মারি ফেলেয়া লাশ গুম করার টেষ্টা কইরছে, তারাতারি আইসো, পুলিশকে খবর দেও’।
এরপর বৃদ্ধা মাকে বার বার পাঠিয়ে ঘরের দরজা খুলে নিতে চেষ্টা চালায় আল-আমীন ও তার স্ত্রী।
পরেরদিন কাউকে কিছুই না বলে সাংবাদিকের স্ত্রী হালিমা বেগম প্রাণভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে তার ভগ্নিপতির বাড়ি চলে যায়।
৩দিন পর সাংবাদিকের বৃদ্ধা মা গোলেজা বেগম স্থানীয়দের কাছে খুলে বলেন-‘আল-আমীন আর তার বউ অন্য কথা বলে সাংবাদিকের বউকে দরজা খোলার জন্য ৫ বার পাঠাইছে’।
স্থানীয়রা আরো জানান, আল-আমীন, তার বউ (স্ত্রী) ও বড় বেটা (ছেলে) রাজু মিলে প্রত্যেক রাতে রাস্তা-পথে সাংবাদিককে মারার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে।
সন্ধ্যা হলেই আল-আমীনের হাতে একটা লাঠি, না হয় টর্চলাইটের মতো যেটা থাকে তার ভিতরে ধারালো ছোরা আছে। তারা আল-আমীনের বরাত দিয়ে এর কারণ হিসেবে জানান, সাংবাদিক তার ২ মেয়ের নামে কিছু জমি দলিল করে দেয়ায় ক্ষীপ্ত হয়েছে।
এজন্য আল-আমীন, তার স্ত্রী ও বড় ছেলে রাজু মিয়া মিলে ছোট ছেলে আশিক মিয়ার সঙ্গে সাংবাদিকের ছোট মেয়ের বিয়ের ঘোষণাপত্রে (এফিডেভিটে) স্বাক্ষর নিতে চেষ্টা করেছে। না পেয়ে সন্ধ্যায় পরিকল্পিতভাবে অপহরণের ঘটনা ঘটায়।
পর দিন (১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ইং) মাকে সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে নিয়ে গিয়ে সাংবাদিকের স্বত্ব-দখলীয় জমি ও বাসতভিটার তফশীল বর্ণনায় ৩টি দলিল করে নেয়। যার দলিল নং-১৩৮৯/২৫, ১৩৯০/২৫ ও ১৩৯১/২৫।
অপহরণকারী ৮ সদস্যের দলের সঙ্গে গরুচুরিসহ একাধিক কু-কর্মে জড়িত থাকায় আল-আমীনের পূর্ব-পরিচিত।
পরিকল্পিত অপহরণের ৬ মাস ২১দিন পর উদ্ধারের হলে অপহৃতা ৯ম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে হাবিবা সিদ্দিকা ওরফে দৃষ্টি ওরফে কবিতা বিজ্ঞ আদালতে ২২ ধারার জবানবন্দিতে এসব ঘটনা উল্লেখ করে। ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার এ অপহরণের ঘটনায় পরবর্তী (১৯ ফেব্রুয়ারি) থানায় একটি মামলা করা হয়।
সুন্দরগঞ্জ থানার মামলা নং-২৭, জিআর মামলা নং- ৫১/২৫।
এসব ঘটনার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা মর্মে পরিবার-পরিজনের জীবন ও সংসারের নিরাপত্তা কামনায় সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক থানায় জিডি করেন। যার নং-১১৫৬/২০২৫।
যা, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অত্র থানায় পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, দীর্ঘদিন থেকে আল-আমীনের বিরুদ্ধে নানান অপকর্মের অভিযোগ আসে। তা পরিবারের পক্ষ থেকে প্রত্যাখান করি।
পরবর্তীতে যখন জানতে পারি বাড়িতে কেউ না থাকায় শয্যাসায়ী বাবার বুকের উপর উঠে বসে গলায় ধারালো ছোরা বসিয়ে আল-আমীন নিজ নামে জমি লুখে নেয়া, ঘটনা কাউকে বলা আর সমস্ত জমি-জমার কাগজপত্র বুঝে নেয়ার শর্তে বাধ্য করার চেষ্টাকালে প্রতিবেশীরা এসে রক্ষা করেন, বৃদ্ধা মা আল-আমীনের পক্ষে কথা না বললে হত্যার ভয়ভীতি দেখানো ছাড়া আমার ২ মেয়ে ও স্ত্রীকে হত্যার ভয়ভীতি দেখিয়ে অসংখ্যবার বড় বড় অঘটন ঘটিয়েছে।
আল-আমীনের বিরুদ্ধে গরুচুরিসহ নানান কু-কর্মের অভিযোগ এখন আর অবিশ্বাস করার কিছুই নেই। মা কে জিম্মি করে প্রতারণামূলক তাকে দাতা বানিয়ে তার প্রাপ্ত অংশের চেয়ে তে-গুণ পরিমাণের জমির দলিল করে নিয়ে পরিবারের অন্যদের জমিতে হস্তক্ষেপ করছে।
ভূমিদস্যু অস্ত্রধারী এ আল-আমীনের পিঁছন শক্তিতে রয়েছে নানান কু-কর্মেলিপ্ত শ্রেণির সংঘবদ্ধচক্র। অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এ বে-পরোয়া চক্রটি দমনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী বলে দাবি বনেন।
এব্যাপারে থানার এসআই আবু সাঈদ জানান, তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।
থানা অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম জানান, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।