লক্ষ্মীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় তরুনের পা বিচ্ছিন্ন-শিশুসহ আহত-২০

কুমিল্লা চট্টগ্রাম জাতীয় দুর্ঘটনা সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

লক্ষ্মীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় তরুনের

পা বিচ্ছিন্ন-শিশুসহ আহত-২০

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর:

রায়পুর- হায়দরগন্জ ও লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রতিদিন ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। গত এক সপ্তাহে এক তরুনের পা বিচ্ছিন্নসহ তিন শিশু ও ২০ জন ব্যাক্তি আহত হয়েছে। চলতি জানুয়ারী মাসেই এই আঞ্চলিক সড়কগুলোতে এসব প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার রাত ৮টায় (২১ জানুয়ারী) হায়দরগন্জ থেকে মোঃ তাহসিন তার বন্ধু মোটরসাইকেল যোগে রায়পুর শহরে আসার পথে মডেল মসজিদের সামনে ভ্যানগাড়ীর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়ে ওই তরুনের ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আরেক জনের মুখ থেতলে যায়। তাদেরকে দ্রুত ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাহসিন হায়দরগন্জ এলাকার সালাহ উদ্দিন ও খুরশিদা বেগম শিক্ষক দম্পত্তির এক মাত্র ছেলে।

এছাড়াও রোববার দুপুরে রায়পুর এলএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক পার হতে গিয়ে সিএনজির ধাক্কায় ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণীর তিন শিশু ছাত্রী গুরুত্বর জখম হয়। এসময় আহতদের উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার ব্যাস্ততম মহাসড়কে স্প্রীড ব্রেকার ও তার উপর সাদা চিহ্ন দেওয়ার দাবিতে ইউএনওর কাছে গনস্বাক্ষরে আবেদন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। গত বছর রাখালিয়া গ্রামে মাদরাসা ছুটি শেষে বাড়ী যাওয়ার পথে সড়ক পার হতে গিয়ে দ্রুতগামি ট্রাকের চাপা পড়ে এক ছাত্রী নিহত হয়। স্বজন ও সহপাঠিরা তিন ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করেছিলেন।

নিহত ফাতেমা আক্তার দালালবাজার এলাকার ইসমাইল হোসেনের মেয়ে।

আহত হালিমা আক্তার ও সুমি আক্তার একই শ্রেণীর শিক্ষার্থী। এঘটনায় থানার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ আড়াই লক্ষ টাকা এবং আহত মরিয়মকে চিকিৎসা খরচ বাবদ ২ লক্ষ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই মহাসড়কের এলএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, রবিদাস-মিলগেট-রাখালিয়া স্টেশন ও মডেল মসজিদ এর সামনে বিপদজনক স্থানে সাদা রং করে স্পিড ব্রেকার দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধায় একই স্থানে কভারভ্যান ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে হয়। এসময় রহিমা বেগম নামের এক নারীকে উদ্ধার করে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান। এসময় সিএনজি যাত্রী এক নারীসহ ৪ জন আহত হয়।

গত সোমবার বাসাবাড়ী বাজার এলাকায় সিএনজি ও মালবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে এক নারী নিহত ও ৬ জন মারাত্নক আহত হয়েছেন।

এছাড়াও ২০২৫ সালে তিনজন নিহত সহ শিশুসহ ৫০ ব্যাক্তি মারাত্নক আহত হয় বলে রায়পুর সরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানাযায়। সড়ক বিভাগের পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির জন্য ১০টি কারণ চিহ্নিত করা হয়।

এগুলো হলো-চালকদের প্রতিযোগীতামূলক মনোভাব ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো। দিনভিত্তিক চুক্তিতে চালক, কন্ডাক্টর অথবা হেল্পারের কাছে গাড়ি ভাড়া দেয়া।

অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ। সড়কে চলাচলে পথচারীদের অসতর্কতা। বিধি লঙ্ঘন করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং। দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো।

ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব। জনবহুল এলাকাসহ দূরপাল্লার সড়কে ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা। সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেলসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি। স্থানীয়ভাবে তৈরি ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্রযানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন।

পর্যবেক্ষণে দেখাযায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু আইন দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে না। এর বিরুদ্ধে জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। সড়কের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারিত ও আধুনিকায়ন আবশ্যক। না হলে ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘনা আরও ভয়ংকর রূপ নেবে।

রায়পুর থানার ওসি মোঃ শাহীন মিয়া বলেন, রায়পুর-লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কেই বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। গত দুই মাসে ৩০-৪০ জনের মত আহত হয়েছেন।

বুধবার রাতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তাকে ঢাকা নেওয়া হয়েছে। আমাদের সবাইকে সচেতন-সতর্ক হতে হবে।


শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *