
মব জাস্টিসে সাংবাদিক নির্যাতন ৩ দিন পরও আসামি গ্রেফতারে পুলিশের গড়িমসি
ইব্রাহিম সুজন, নীলফামারীঃ
নীলফামারীর ডিমলায় কালবেলার প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব ডিমলার সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান মৃধা এবং বার্তা বাজার ও দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব ডিমলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজোয়ান ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে সাংবাদিক সমাজে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত এ প্রতিবেদন লেখা সময়ে পুলিশ কোনো আসামি গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।
এতে আহত দুই সাংবাদিক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর আগে, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নে পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সংবাদ সংগ্রহের সময় পূর্বপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন তারা। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে তারা ডিমলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার দিন রাতেই সাংবাদিক মো. রেজোয়ান ইসলাম বাদী হয়ে ডিমলা থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তবে মামলা দায়েরের তিন দিন অতিবাহিত হলেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মামলার বাদী সাংবাদিক মো. রেজোয়ান ইসলাম বলেন, ঘটনার এতদিন পার হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার না করায় আমরা চরম হতাশ। এতে পুলিশের গড়িমসি ও দায়িত্বহীনতা স্পষ্ট হচ্ছে।
প্রভাবশালীদের কারণে কি আসামিরা আইনের বাইরে থাকবে ? আমরা দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাই।
আহত সাংবাদিক কামরুজ্জামান মৃধা বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও গুরুতর অপরাধ।
ঘটনার পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুলিশ যদি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। আমরা অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার ও আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ডিমলা প্রেসক্লাব, নীলফামারী সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, ডিমলা উপজেলা প্রেসক্লাব, ডিমলা রিপোর্টার্স ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।
পাশাপাশি জেলার জ্যেষ্ঠ ও প্রথিতযশা সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাংবাদিকরা যদি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়, তবে এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। তারা স্পষ্টভাবে জানান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে।
এ ঘটনার ব্যাপারে প্রশাসনের অবস্থান জানার জন্য ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত আলী সরকার এবং সহকারী পুলিশ সুপার নিয়াজ মেহেদীকে একাধিকবার কল করা হয়; তবে তারা ফোন রিসিভ করেননি।