
মসজিদে নামাজে বিএনপির এক
পক্ষের ওপর অন্য পক্ষের হামলা
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে মসজিদে নামাজ চলাকালীন সময়ে বিএনপির এক গ্রুপের ওপর আরেক গ্রুপের অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার দেউলভোগ দয়হাটা বায়তুল আমান জামে মসজিদের ভেতর এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই নতুন করে অতর্কিত হামলার ঘটনায় এলাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আওলাদ হোসেন উজ্জ্বলের মৃত শ্বশুরের জানাজায় অংশ নিতে কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু দয়হাটা এলাকায় আসেন।
এ সময় মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ আব্দুল্লাহর সমর্থক ও উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা তরিকুল ইসলাম তার পথরোধ করেন।
পরে মীর সরাফত আলী সপু মোটরসাইকেলযোগে জানাজাস্থলে পৌঁছান। জানাজা শেষে তিনি নামাজ পড়তে দয়হাটা বায়তুল আমান জামে মসজিদে গেলে সাবেক যুবদল নেতা তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা মসজিদে নামাজ চলাকালীন সময়ে সপুর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময়ও হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এতে সপুর দুই সমর্থকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। তারা চিকিৎসা নিয়েছেন শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনিরা আক্তার জানান, মারামারিতে আহত অবস্থায় দুজনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তাদের মাথায় আঘাত রয়েছে। তবে ক্ষত না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
আহতরা হলেন-মমিনুল ইসলাম ফাহিম (২০) ও আব্দুর রহিম (৪৭)। তারা মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুর সমর্থক।
আহতরা হামলার জন্য বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহর সমর্থকদের দায়ী করেছেন।
এদিকে বিএনপির প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তার অনুসারী শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান বলেন, সন্ধ্যায় সপু ভাইয়ের গাড়ির সঙ্গে যুবদলের তরিকুলের মোটরসাইকেল আটকে যাওয়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে।
একপর্যায়ে তরিকুলকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। তবে তরিকুল বহিষ্কৃত এবং তিনি আমাদের সমর্থক নন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশা করি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।