
কুষ্টিয়ায় বস্তায় আদা চাষে
সোহাগের নীরব বিপ্লব
হৃদয় রায়হান, কুষ্টিয়াঃ
গত মৌসুমে ৭ হাজার বস্তায় আদা চাষ করে তাক লাগানো কুষ্টিয়া মিরপুরের সফল কৃষি উদ্যোক্তা মোঃ আব্দুর রহমান সোহাগ এবার গড়ে তুলেছেন ১৫ হাজার বস্তার বিশাল আদা খামার। পিতা মোঃ আফতাব উদ্দিনের সন্তান সোহাগের এই নীরব কৃষি বিপ্লব শুধু নিজের খামারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ২০২৫-২৬ মৌসুমে তাঁর উৎপাদিত উন্নত জাতের বীজ আদা ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে জেলার বাইরে অন্তত ১০টি উপজেলায়।
পাশাপাশি নিজ গ্রাম নওদা খাঁড়ারার বহু আগ্রহী কৃষকও তাঁর বীজ ব্যবহার করে চলতি মৌসুমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেতে শুরু করেছেন। সরেজমিনে নওদাখাঁড়ারা ব্লকে সোহাগের খামারে গিয়ে দেখা যায় এক মনোরম দৃশ্য।
সুবিন্যস্তভাবে সাজানো ১৫ হাজার বস্তায় লকলকিয়ে বাড়ছে আদা গাছ। খামারের প্রতিটি গাছের উচ্চতা গড়ে প্রায় আড়াই ফুটে পৌঁছেছে। কোনো ধরনের রোগবালাইয়ের লক্ষণ নেই, গাছে গাছে ফুটে উঠেছে সতেজ ও স্বাস্থ্যকর আবহ।
গত মৌসুমে ‘যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প’–এর আওতায় বস্তায় আদা চাষ করে উপজেলা পর্যায়ে সেরা যুব উদ্যোক্তার স্বীকৃতি পান সোহাগ। সেই অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীতে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এবার তিনি নেমেছেন আরও বড় পরিসরে।
আদা চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চফলনশীল ব্যবস্থাপনা সরাসরি দেখতে তিনি সম্প্রতি সফর করেছেন থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া। সেই আন্তর্জাতিক বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং পরীক্ষামূলকভাবে লাগানো বৈচিত্র্যময় জাতের আদা খামারে প্রয়োগ করায় এবারের গাছগুলোর বৃদ্ধি বিগত বছরের চেয়েও অনেক বেশি দৃষ্টিনন্দন।
উদ্যোক্তা মোঃ আব্দুর রহমান সোহাগ জানান, “গত বছরের ভুলত্রুটি ও অভিজ্ঞতা থেকে এবার মাটির মিশ্রণ ও পরিচর্যায় বিশেষ পরিবর্তন এনেছি। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে যে প্রযুক্তি ও আধুনিক কলাকৌশল দেখে এসেছি, তা এই খামারে শতভাগ বাস্তবায়ন করছি। গাছের বর্তমান স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি দেখে আমি শতভাগ আশাবাদী—গতবারের চেয়ে এবার প্রতি বস্তায় ফলন ও গুণগত মান দুটোই বহুগুণ বাড়বে।” সোহাগের খামার দেখে ও তাঁর কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে উপকৃত স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনাবাদী বা ছায়াযুক্ত জমিতে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষের যে পথ সোহাগ দেখিয়েছেন, তা পুরো অঞ্চলের বেকার যুবক ও কৃষকদের মাঝে নতুন আয়ের পথ খুলে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি আর বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সোহাগের এই ১৫ হাজার বস্তার প্রকল্প দেশের মসলা ফসলের ঘাটতি পূরণে একটি শক্তিশালী ও অনুকরণীয় মডেল হতে চলেছে।