
প্রয়াত স্বামীর বাড়িতে সংসার পেতেই
শাশুড়ীকে বের করে দিলেন
চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধিঃ
অসুস্থ হয়ে মারা গেছে বৃদ্ধা ছেনোয়ারা বেগমের একমাত্র সন্তান শ্রাবণ। রেখে গেছে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী তানজিনা আক্তার ও ২ বছর বয়সী শিশু সন্তান সালমানকে। সেই স্ত্রী আবার বিয়ে করে সংসার পেতেছেন প্রয়াত স্বামীর বাড়িতে, মারধর করে বের করে দিয়েছে বৃদ্ধা শ্বাশুড়িকে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের আমানগন্ডা (শালুকিয়া) গ্রামে। বাড়ি থেকে উচ্ছেদের শিকার বৃদ্ধা অভিযোগ দায়ের করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায়।
অভিযোগের তথ্য নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক অভিজিৎ দাস বলেন, ‘এ বিষয়ে উভয়পক্ষকে ডাক বিবাদীগণ হাজির হয় নাই। বৃদ্ধা ছেনোয়ারা বেগমের অনুরোধে আমি ওদের বাড়িতে গিয়ে শ্রাবণের স্ত্রী তানজিনাকে বলে এসেছি শ্বাশুড়িকে নিয়ে এই বাড়িতে বসবাস করার জন্য। পর পুরুষ যেন এই বাড়িতে প্রবেশ না করে।’
জানা গেছে, আমানগন্ডা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে দুবাই প্রবাসী শ্রাবণ অসুস্থ হয়ে তিন বছর আগে মারা যায়।
মৃত্যুর আগে এলাকার গণ্যমান্য লোকজনের উপস্থিতিতে শ্রাবণের গচ্ছিত ২৫ লাখ টাকার মধ্যে ৫ লাখ স্ত্রীর কাবিন বাবদ, ৫ লাখ মা কে ও বাকি ১৫ লাখ শিশু সন্তান সালমানের নামে এফডিআর করা হয়। শর্ত থাকে স্ত্রী তানজিনা আক্তার পুনরায় বিয়ে না করলে শ্রাবণের বাড়িতেই থাকবে। আর যদি বিয়ে করে তাহলে পরের স্বামীর বাড়িতে চলে যাবে। কিন্তু তানজিনা একই উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া গ্রামের হাসান নামের এক যুবককে বিয়ে করে প্রয়াত স্বামীর বাড়িতেই সংসার করছে।
উল্টো নতুন স্বামী ও বাবা, ভাইকে সাথে নিয়ে মারধরের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় বৃদ্ধ শ্বাশুড়ি ছেনোয়ারা বেগমকে। এ বিষয়ে প্রয়াত শ্রাবণের স্ত্রী বলে, ‘এবাড়ি আমার শিশু সন্তানের। নতুন স্বামী নিয়ে আমি এই বাড়িতেই থাকবো।’ তানজিনার ফুফু রেখা বেগম বলেন, ‘আমার মাধ্যমে তাদের দুই জনের বিয়ে হয়েছে।
ভাগিনা শ্রাবণ মারা যাওয়ার পরে তানজিনা বিয়ে করবেনা বলে ওই বাড়িতে বসবাস করে। কিন্তু তানজিনা গোপনে আবার বিয়ে করে নতুন স্বামীকে নিয়ে শ্রাবনের বাড়িতেই বসবাস শুরু করে।
এ বিষয়ে বারণ করলে শ্বাশুড়িকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।’ শ্রাবণের মা বৃদ্ধা ছেনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের বউ অন্য ছেলেকে বিয়ে করে আমার ঘরেই থাকে। আমি তাকে নতুন স্বামীর বাড়িতে চলে যেতে বললে তারা আমাকে মারধর করে বের করে দেয় এবং আমার ঘরে বউ তার ভাই নিয়ে থাকে। তারা আমাকে হুমকি দেয়, ভয় দেখায়।’