
লালমাইতে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত
মোস্তফা কামাল মজুমদার, লালমাইঃ
লালমাই উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র্যালী ও বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার,৩ সেপ্টেম্বর,২০২৬ বিকেল ৪ ঘটিকায় বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আনোয়ার উল্লাহ বিএসসি এর সভাপতিত্বে বর্ণাঢ্য র্যালী ও বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এমপি বলেন, বিএনপি কোনো ব্যক্তির পৈতৃক সম্পত্তি নয়। আগামী ৫৪ মাসের জন্য দল ও জনগণের দেওয়া দায়িত্ব তাঁর কাছে একটি আমানত মাত্র।
তিনি বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমি আজ যে অবস্থানে এসেছি, তা জনগণের ভালোবাসা ও ভোটের কারণেই। একসময় অন্যের অধীনে নির্বাচন করলেও আজ প্রায় ৬ লাখ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।”
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লালমাই উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান ও সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, “আজও বিভিন্ন ধরনের স্লোগান শুনি। কিন্তু যারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে, তাদের অনেকেই আবার ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে ক্ষমাও চায়।”
নিজের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “গর্বের সঙ্গে বলবেন-মোবাশ্বের ভূঁইয়ার কর্মী হলেও আমরা, ভাই হলেও আমরা, সমর্থক হলেও আমরা। রাজনীতি করার জন্য মোবাশ্বের ভূঁইয়ার কোনো কমিটির প্রয়োজন হয় না।” তিনি আরও বলেন, “উপজেলা বিএনপির কমিটি আমাকে মানুক কিংবা না মানুক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি রাজনীতি করি জনগণ ও নেতাকর্মীদের নিয়ে।”
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক মাঠে প্রতিযোগিতা থাকবে, খেলা হবে। তবে কুমিল্লা-১০ আসনের রাজনীতিতে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না।”
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে মনির ভাইয়ের সম্পর্ক দুধ আর চিনির মতো। রাজনৈতিক মাঠে মতপার্থক্য ও প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্কে আমরা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সংসদে দেখা হলে আমি তাঁর পা ছুঁয়ে সালাম করি, কারণ তিনি আমার মুরুব্বি।”
মনিরুল হক চৌধুরীর সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক নেতাদের বিরোধের মধ্যে পড়ে কেউ যেন নিজেদের বলির পাঠা না বানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অযথা উসকানি বা সুরসুরি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করবেন না।”
তিনি আরো বলেন, আমান চেয়ারম্যান বিএনপির ধানের শীষকে ভোট দেয় নাই,তিনি ভোটের দিন কুমিল্লা-৬ আসনে ছিলেন,আমান চেয়ারম্যান মরলে তাঁর জানাজায় আমি যাব না,আমি মরলেও তিনি যেন আমার জানাজায় না আসেন।
উপজেলা বিএনপির নেতা মাওলানা মোঃ জাকির হোসেন ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ শাহ আলম এর যৌথ সঞ্চালনায় বর্ণাঢ্য র্যালী ও বিশাল জনসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন লালমাই উপজেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন এপিপি, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আক্তারুজ্জামান মজুমদার রকেট, যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আসলাম মজুমদার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আবু ইউনুস হাসান মানিক, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম জাবের আহমেদ জাবেদ, সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুর রহমান, মহিন উদ্দিন, ইকবাল হোসেন, আরিফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব খোরশেদ আলম লোকমান, বাগমারা উত্তর বিএনপির সভাপতি ডালিম, ভূলইন দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাফেজ বেলাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ, ভুলইন উত্তর বিএনপি নেতা সফিকুর রহমান, পেরুল উত্তর বিএনপির সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল মজুমদার, সাবেক যুগা আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওসমান গনী রিংকু, বাকই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং সাধারণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, জেলা যুবদলের সদস্য এনামুল হক মজুমদার, সদস্য মানিক মিয়া, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মাস্টার শাহ আলম, সদস্য শরীফ মেম্বার সদস্য ফরহাদ উদ্দিন, কাজী মেহেদী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোজাম্মেল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ অপু, উপজেলা ছাত্রদলের নেতা, মাসুদ, রাজু, অয়ন, বাহার প্রমুখ।
এছাড়াও উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীগন উপস্থিত ছিলেন।