
সংবাদ সম্মেলনে নারীর আকুতি-৩২ বছরের বৈবাহিক জীবনে একদিনও শান্তি পাইনি
রিফাত, পাবনা:
পাবনার বেড়া উপজেলায় নিজের ওপর ঘটে যাওয়া দীর্ঘদিনের অমানবিক সহিংসতা ও নির্যাতন রোধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলিজা খাতুন (৫০) নামের এক ভুক্তভোগী নারী। তিনি বেড়া উপজেলার বনগ্রাম দক্ষিণ পাড়ার মোতালেব খানের স্ত্রী।
গত বুধবার (১লা জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় ‘লার্নার্স অর্গানাইজেশন’ নামের একটি প্রতিবন্ধী সংস্থার ব্যানারে বেড়া প্রেসক্লাব সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এলিজা খাতুন অত্যন্ত আবেগাপ্লুত ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ৩২ বছরের দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে তিনি একটি দিনের জন্যও শান্তি পাননি। বিয়ের পর থেকেই স্বামী মোতালেবের নেশা করা বন্ধের জন্য চাপ দেয়ায় স্বামী তার উপরে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করে আসছিলেন। বর্তমানে ছেলে-মেয়েরা বড় হওয়া সত্ত্বেও স্বামী মোতালেব তাদের বুঝিয়ে নিজের পক্ষে রেখে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে এলিজা খাতুনের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী নিজে যেমন নেশা করেন, তেমনি তাঁর ছেলেদেরও নেশায় আসক্ত করেছেন। তাঁর দুই ছেলের মধ্যে একজন মদ ও অপরজন ইয়াবা সেবন করে। স্বামী ও ছেলেরা নেশাগ্রস্ত থাকায় পরিবারে সবসময় অশান্তি লেগেই থাকে। এমনকি তাঁর এক মেয়ে এমবিবিএস ডাক্তারি পাস করে ঢাকার উত্তরায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন, যিনি মায়ের কষ্টের কথা বলতে গেলে উল্টো বকাঝকা করেন।
এলিজা খাতুন জানান, কেবল স্বামী বা ছেলেই নয়, তাঁর ভাসুর এবং ভাসুরের ছেলে সবুজ, রাসেল, বিপ্লব ও রাফেলও তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়।৷ এর মাঝে একদিন মারধরের একপর্যায়ে তিনি সড়কের ওপর বেহুঁশ হয়ে পড়ে থাকেন, কিন্তু তাঁকে উদ্ধার করার মতো কেউ থাকে না। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁরা সবাই নেশাগ্রস্ত এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
নির্যাতনের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন,
“অনেক সময় তারা এমন চাপা মার দেয় যে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকি, কাউকে দেখাতে পারি না, বলতেও পারি না। তাদের নির্যাতনে আমি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছি।”
তিনি এই অব্যাহত সহিংসতা ও নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।