ডাকসুর উদ্যোগে ‘গেস্টরুম-গণরুম ও ফ্যাসিবাদী আমলের নির্যাতনের স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

আইন আদালত জাতীয় ঢাকা রাজনীতি শিক্ষা সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

ডাকসুর উদ্যোগে ‘গেস্টরুম-গণরুম ও ফ্যাসিবাদী আমলের নির্যাতনের স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘গেস্টরুম-গণরুম ও ফ্যাসিবাদী আমলের নির্যাতনের স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ওসমান হাদি হল (প্রস্তাবিত) অডিটোরিয়ামে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত মোট ৫৩ জন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারীকে ৩০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ২০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এছাড়াও নির্বাচিত সকল বিজয়ীর হাতে নগদ অর্থ, সনদপত্র (সার্টিফিকেট) ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
স্বাগত বক্তব্যে মুসাদ্দিক বলেন, গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি এবং ফ্যাসিবাদী আমলে শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের ইতিহাস আমাদের সাম্প্রতিক জাতীয় ও ছাত্ররাজনীতির এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। সময়ের প্রবাহে অনেক স্মৃতি হারিয়ে গেলেও ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম এবং প্রতিরোধের গল্প সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা শুধু অতীতের ঘটনাগুলোকে নথিবদ্ধ করিনি, বরং নতুন প্রজন্মের সামনে সত্য ইতিহাস তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, এসব স্মৃতিচারণ ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবিক মর্যাদা এবং ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে এসব স্মৃতিচারণমূলক লেখা বই আকাড়ে বের করা হবে।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, “যে কোনো সমাজে অন্যায়, নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে মানুষের অভিজ্ঞতাগুলো সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি এবং ফ্যাসিবাদী আমলের নির্যাতনের ঘটনাগুলো শুধু ব্যক্তিগত কষ্টের গল্প নয়, বরং একটি সময়ের বাস্তবতার দলিল। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা সেই অভিজ্ঞতাগুলোকে লিখিত আকারে সংরক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করেছি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারে এবং একটি অধিকতর মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও স্বাধীন শিক্ষাঙ্গন গঠনে উদ্বুদ্ধ হয়।
অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিকতা ও সাহসিকতা এই উদ্যোগকে অর্থবহ ও সফল করেছে।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি ও ফ্যাসিবাদী আমলের নির্যাতনের ঘটনাগুলো আমাদের ক্যাম্পাস জীবনের এমন কিছু অধ্যায়, যা অনেকের জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। এ স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা সেই অভিজ্ঞতাগুলোকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করেছি। যারা সাহসের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেছেন, তারা কেবল একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি; বরং সত্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল নির্মাণে অবদান রেখেছেন। আমরা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও সহনশীলতার চর্চা নিশ্চিত হবে এবং কোনো শিক্ষার্থীকে আর কখনো ভয় ও নিপীড়নের পরিবেশের মুখোমুখি হতে হবে না।
সূর্য সেন হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য সায়েদুজ্জামান আলভীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. ইকবাল হায়দার, ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আক্তার, আনাস ইবনে মুনির ও শহিদ ওসমান হাদি হল (প্রস্তাবিত) সংসদের জিএস আহমেদ আল সাবাহসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *