
গৌরীপুরে প্রধান শিক্ষককে স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ঘেরাও
গৌরীপুর প্রতিনিধি, ময়মনসিংহঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের দাবিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
সোমবার (১ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় বিক্ষোভকারীরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ অনিয়ম, চলমান মামলা এবং সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ তুলে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোঃ শফিকুল ইসলাম পূর্বে একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
এছাড়া জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার আসামি হিসেবে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
এ বিষয়ে গত ৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক মোঃ মোস্তফা কামাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও তার বেতন-ভাতা স্থগিত করার দাবি জানানো হয়।
পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১” এর ধারা ১৯ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট নির্দেশনা পাঠানো হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা থেকে ১৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে প্রেরিত এক স্মারকে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
এর প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আপিয়া আমিন পাপ্পা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহফুজ ইবনে আইয়ুব, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিছুর রহমান এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তদন্ত কমিটির তথ্যমতে, প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য ২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ৫ আগস্ট বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শফিকুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে ময়মনসিংহের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে মামলা নং ৭৭/২০২৪ বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এছাড়া জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় তিনি আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নীতিমালা-২০২১ এর ধারা ১৯ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা যেতে পারে বলেও প্রতিবেদনে মত দেওয়া হয়।
এদিকে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, এতসব অভিযোগ ও প্রশাসনিক সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে তার চাকরি এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। তারা দ্রুত তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ও সংশ্লিষ্ঠ কতৃর্পক্ষের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কিভাবে প্রধান শিক্ষক এমপিও ভুক্ত হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বিষয়টি জানিয় চিঠি দেওয়া হবে। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবেন।