
পৌনে এক কোটি টাকার ব্লুইসগেটেই জলাবদ্ধতা- গৌরীপুরে তলিয়ে গেল শত হেক্টর ধান
মোঃ হুমায়ুন কবির, গৌরীপুরঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের বিল কেইলায় প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জলকপাট (ব্লুইসগেট) এখন চারটি গ্রামের কৃষকদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবাদি জমির ফসল রক্ষার উদ্দেশ্যে নির্মিত এ প্রকল্পের কারণে বরং সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা, তলিয়ে গেছে কয়েক শ হেক্টর জমির পাকা ধান।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খালের পানির স্তরের চেয়ে উঁচুতে ব্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের কপাটগুলোও সঠিকভাবে ওপরে উঠছে না। ফলে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বৃষ্টির পানি আটকে বিলজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, রামগোপালপুর ইউনিয়নের বিল কেইলায় ধূরুয়া, বিশ্বনাথপুর, তেরশিরা ও কান্দুলিয়া গ্রামের কৃষকেরা দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করে আসছেন। কিন্তু ব্লুইসগেট নির্মাণের পর থেকে প্রতিবছরই বর্ষা ও অতিবৃষ্টিতে তাদের ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, চলতি মৌসুমেও বৃষ্টির পানি জমে কয়েক শ হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।
ধূরুয়া গ্রামের কৃষক সিদ্দিক মিয়া বলেন, “আগে বর্ষা মৌসুমে খালে স্বাভাবিকভাবে পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্তু ব্লুইসগেট নির্মাণের পর থেকে আমন ও বোরো কোনো ফসলই ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারছি না। চাষাবাদের খরচ বাড়লেও জলাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।”
গৌরীপুর এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষি, মৎস্য ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে বিল কেইলা খালে ৮৮ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮০ টাকা ব্যয়ে ব্লুইসগেটটি নির্মাণ করা হয়।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। কৃষকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।
এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় কৃষকেরা দ্রুত ব্লুইসগেটের ত্রুটি নিরসন ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রতিবছর ফসলহানির শিকার হতে না হয়।