এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার ফি দিয়েও এডমিট নিতে গিয়ে জানল ফরম পূরণ হয়নি

আইন আদালত কুমিল্লা চট্টগ্রাম জাতীয় শিক্ষা সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার ফি দিয়েও এডমিট নিতে গিয়ে জানল ফরম পূরণ হয়নি

সৌরভ মাহমুদ হারুন, ব্রাহ্মণপাড়াঃ

পরীক্ষার প্রস্তুতি ছিল শেষ পর্যায়ে। নতুন স্বপ্ন নিয়ে আবারও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় বসার অপেক্ষায় ছিল শিক্ষার্থী সিয়াম মুন্সি। কিন্তু এডমিট কার্ড নিতে গিয়ে সে জানতে পারে ভয়াবহ এক সত্য—তার ফরমই পূরণ হয়নি। বিদ্যালয়ে টাকা জমা দেওয়ার পরও বোর্ডে আবেদন না যাওয়ায় এখন পরীক্ষায় বসাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার। একটি প্রশাসনিক গাফিলতিতে থমকে যেতে বসেছে এক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন।

ঘটনাটি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা করিম বক্স হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের কারিগরি শাখার।

অভিযোগ উঠেছে, এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে সিয়ামের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেওয়া হলেও সময়মতো তার আবেদন বোর্ডে জমা দেওয়া হয়নি।

পরীক্ষা শুরুর তারিখ ১২ মে  মঙ্গলবার  কিন্তু এই একদিনে কি তার এডমিট হবে আর সে কি পরীক্ষা দিতে পারবে ?  এই অনিশ্চিত প্রশ্ন  এঘন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহল সহ সকলের নিকট।

জানা যায়, ২০২৫ সালে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জেনারেল ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয় সিয়াম।

নিয়ম অনুযায়ী চলতি বছর পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণের জন্য বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ টাকা জমা দেয় সে। পরিবারটির দাবি, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কথামতো সব কিছু ঠিকঠাক জমা দেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত ফরম পূরণ হয়নি।

পরীক্ষা শুরুর পর এডমিট কার্ড নিতে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাছ থেকে জানতে পারে—বোর্ড থেকে তার এডমিট আসেনি, কারণ তার ফরমই পূরণ করা হয়নি। মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে সিয়াম ও তার পরিবার।

সিয়ামের মা মিতা আক্তার কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন,
“আমরা গরিব মানুষ। ছেলেকে মানুষ করার স্বপ্নে কষ্ট করে টাকা জোগাড় করেছি। স্কুল যত টাকা চেয়েছে, দিয়েছি। এখন শুনি ফরমই জমা হয়নি ! আমার ছেলের একটি বছর নষ্ট হয়ে যাবে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ—আমার ছেলেকে যেন পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়।”

বিদ্যালয়ের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক জমির হোসেন জানান, শিক্ষার্থী টাকা আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাছে জমা দিয়ে ছিল।

পরে বিষয়টি জানার পর বোর্ডে যোগাযোগ করা হলেও সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় আর ফরম পূরণ সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক  মো. জামাল উদ্দিন বিএসসি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের রেকর্ডে সিয়ামের ফরম পূরণের কোনো তথ্য নেই।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল করিম।

তিনি বলেন,”একজন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ না হওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপূরণীয় ক্ষতি। আমি শুনেছি রোববার ১০ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট পরীক্ষা বঞ্চিত শিক্ষার্থীর মা একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন।  আমার নিকট অভিযোগ  পাঠালে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন,”বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। রোববার ১০ মে  শিক্ষার্থী সিয়ামের মা নিপা আক্তার একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

আগামী ১২ মে সিয়ামের পরীক্ষার দিন ছিল। এসময় তার পরীক্ষার দেয়ার  কোন ব্যবস্থা করতে না পারলে ও  এর জন্য যারা দায়ী এ বিষয়ে আইনগত প্রশাসনিক  বয়বস্থা নিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহ  একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এখন প্রশ্ন একটাই—দায়িত্বহীনতার বোঝা কি এক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কেড়ে নেবে, নাকি শেষ মুহূর্তে প্রশাসনিক উদ্যোগে খুলবে আশার দুয়ার?
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে  দায়ীদের জবাবদিহি এবং সিয়ামের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *