বুড়িচং লাটিয়ার বাজারে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত !

অর্থনীতি কুমিল্লা চট্টগ্রাম জাতীয় রাজনীতি সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

বুড়িচং লাটিয়ার বাজারে  সরকার রাজস্ব বঞ্চিত !

সৌরভ মাহমুদ হারুন, বুড়িচংঃ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের লাটুয়ার বাজার। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার এই এলাকায় সরকারী কোন দরপত্র ছাড়াই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রাজনৈতিক পরিচয়ে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বাজারটি পরিচালনা করছে।

এতে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে। দীর্ঘদিন ধওে এভাবে বাজারটি পরিচালিত হওয়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

সরেজমিন ঘুরে স্থানীয় একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের লাটুয়ার বাজার এলাকার আশপাশ জুড়ে রয়েছে একাধিক সমৃদ্ধ বানিজ্যিক এলাকা। এর উত্তরে কংশনগর,দক্ষিণে নিমসার,কাবিলা ও পূর্বে ময়নামতি বাজারের অবস্থান।

ব্যবসা কেন্দ্রিক এই এলাকাটির অবস্থান উল্লেখিত বাজারগুলোর অনেকটা মাঝামাঝি স্থানে। এই সুযোগে বানিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানীয় একটি সুবিধাভোগী চক্র রাজনৈতিক পরিচয়ে দীর্ঘ দিন ধরে কোন প্রকার দরপত্র ছাড়াই লাটুয়ার বাজারে অলিখিত গরু,ছাগলসহ অন্যান্য পশু বিক্রয় করে আসছে।

প্রতিটি বাজারেই উল্লেখযোগ্য পরিমান গরু, ছাগল বিক্রির জন্য নিয়ে আসে বিক্রেতারা। এমনইভাবে অনেক ক্রেতার ভীড়ও থাকে বাজারটিতে। স্থানীয় সুত্র মতে প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার অনিন্ধিত বাজারটিতে কেনা-বেচা চলে।

এতে বাজার পরিচালনা সিন্ডিকেট সদস্যরা ইচ্ছে মতো খাজনা আদায় করে। অবস্থা ভেদে প্রতিটি গরু সর্ব নিম্ন এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার,ছাগল ৮’শ থেকে ১০০০/১২০০ টাকা খাজনা আদায় করে।

স্থানীয় একাধিক সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাজারটির কোন অনুমোদন না থাকলেও সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বিক্রেতাদের আকর্ষন করতে গরু,ছাগল বাঁধার জন্য খুটিও বসিয়েছে।

গতকাল ২৭ এপ্রিল দুপুরে সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে কমপক্ষে ৭০/৮০ টি গরুর বিপরীতে প্রায় দেড় শতাধিক ছাগল বিক্রির অপেক্ষমান ব্যবসায়ীরা।

স্খানীয় সাধারন খামারী ছাড়াও দুর দুরান্তের অনেক ব্যবসায়ীও এখানে পশু কেনা বেচায় জড়িত। তবে দিনের পর দিন নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হলেও সরকার বঞ্চিত হচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে। বাজার ঘুরে এর বৈধতা জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেউ কেউ ইজারার কথা বললেও অনেকেই জানান, ইজারা ছাড়াই চলছে বাজারের কার্যক্রম।

বিষয়টি জানতে চাইলে ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজারটি ক্যালেন্ডার ভূক্ত না। তাই এটা সরকারীভাবে স্বীকৃত না।

তিনি আরো বলেন, আমি একাধিকবার স্ব-শরীরে গিয়ে বাজারটি বসতে নিষেধ করেছি।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হোসেন দীর্ঘদিন বাজারটি বসার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, ১৪৩৩ বাংলা সনের শুরু থেকে বাজারটি বসার চেষ্টা চলছিল। হয়তো গতকাল (২৭ এপ্রিল) প্রথম বারের মতো বসেছে। আমি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।


শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *