এসএসসি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র কেলেঙ্কারি-নতুন সিলেবাসের শিক্ষার্থীদের হাতে পুরাতন প্রশ্ন

আইন আদালত কুমিল্লা চট্টগ্রাম জাতীয় রাজনীতি শিক্ষা সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কেলেঙ্কারি-নতুন সিলেবাসের শিক্ষার্থীদের হাতে পুরাতন প্রশ্ন

লাকসাম প্রতিনিধিঃ
দুই বছরের কঠোর পরিশ্রম আর স্বপ্ন নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে লাকসামের একটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিভ্রাটের ঘটনা।
নতুন সিলেবাসে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও, কয়েকজন পরীক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পুরাতন সিলেবাসের প্রশ্নপত্র।
গত ২১ এপ্রিল মুদাফ্ফরগঞ্জ আলী নওয়াব উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে (কোড-১৭৬, লাক-২) এ ঘটনা ঘটে।
রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রাহাদ ও ইয়াছিন আরাফাত, কামড্যা শহীদ আবুল খায়ের উচ্চ বিদ্যালয়ের পারভেজ আহমেদ আকাশসহ কয়েকজন পরীক্ষার্থী ৪০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষায় অংশ নেন। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পর্যবেক্ষক শিক্ষার্থীদের সিলেবাস যাচাই না করেই ভুলবশত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন।
পরীক্ষার সময় বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে বাড়িতে গিয়ে প্রশ্ন মিলিয়ে তারা ভুলটি জানতে পারেন এবং ভেঙে পড়েন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রাহাদ বলেন, “দুই বছর ধরে নতুন সিলেবাসে প্রস্তুতি নিয়েছি।
 আমাদের এই ক্ষতির দায় কে নেবে?”
অপর শিক্ষার্থী ইয়াছিন আরাফাত বলেন,
“পরীক্ষার হলে আমরা শিক্ষকদের ওপর ভরসা করি। সেই বিশ্বাসই আজ ভেঙে গেল।”
শিক্ষার্থীরা জানান, তারা কোনো সহানুভূতি নয়, বরং ন্যায্য মূল্যায়ন ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান।
এ ঘটনায় তারা কেন্দ্র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
 অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এ ভুল তাদের ফলাফলে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র ও ওএমআর যাচাই করে সঠিক প্রশ্নপত্র প্রদান করা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আইনি দায়িত্ব।
কেন্দ্র সচিব মিজানুর রহমান বলেন,
‘ভুলবশত নতুন প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পুরনো প্রশ্নপত্র ঢুকে গেছে। কেন্দ্র সচিব হিসেবে আমি দায় এড়াতেতে পারি না। বোর্ড কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করেছি এবং শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সুবিবেচনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।’
বর্তমান কেন্দ্র সচিব ছায়েদুর রহমান জানান, ‘ভবিষ্যতে এমন ভুল এড়াতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিচ্ছে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি বোর্ডকে জানানো হয়েছে এবং বোর্ড কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত বোর্ড নেবেন।’
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা জানান, ‘ঘটনার পর কেন্দ্র সচিব পরিবর্তন করা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।’
এদিকে, এ ঘটনায় শিক্ষাবোর্ড কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার।

শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *