
নববর্ষ উপলক্ষে লাকসাম সেইভ দ্য হিউম্যানিটি’র পরিচ্ছন্নতা অভিযান
লাকসাম প্রতিনিধি:
নববর্ষের অঙ্গীকার,কুমিল্লার লাকসাম থাকবে পরিষ্কার”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে লাকসামে বর্ণাঢ্য ও ব্যতিক্রমী আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩। প্রথাগত উৎসবের বাইরে গিয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে দিনভর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ঐতিহ্যবাহী দেশীয় খাবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘সেইভ দ্য হিউম্যানিটি’।
মঙ্গলবার সকাল ৮টায় দৌলতগঞ্জ স্টেশন মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। এরপর প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজনের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। কর্মীরা পর্যায়ক্রমে দৌলতগঞ্জ স্টেশন মসজিদ মাঠ, বিএস টাওয়ার, বাজারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক ও নোয়াখালী রেলগেট এলাকার আবর্জনা পরিষ্কার করেন।
অভিযানটি চাঁন মিয়া টাওয়ার হয়ে বাইপাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে লাকসামের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সুশৃঙ্খলভাবে মাঠের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে উত্তর প্রান্ত পর্যন্ত পরিষ্কার করেন কর্মীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা এমন কোনো কাজ করব না যাতে পরিবেশের ক্ষতি হয়। জীবনের চেয়েও ঈমান বড়, আর নতুন প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম ও পরিচ্ছন্নতার এই শিক্ষা পৌঁছে দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। পহেলা বৈশাখ আমাদের ঐতিহ্যের অংশ, তাই আমরা জাতিকে ব্যতিক্রমী ও কল্যাণকর কিছু উপহার দিতে সর্বদা সচেষ্ট থাকব, ইনশাআল্লাহ।”
দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার এই কর্মসূচি শেষে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
তবে আধুনিক ফাস্টফুড নয়, বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যকে ধারণ করে চিঁড়া, মুড়ি, নারকেল, কলা ও দই দিয়ে কর্মীদের আপ্যায়ন করা হয়। অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে এই দেশীয় খাবারের মাধ্যমেই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিটি স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, উৎসবের দিনে এ ধরনের সচেতনতামূলক কাজ লাকসামের পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।