
ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের বুড়িচং নিমসার বাজারে অবৈধ স্থাপনা সওজের উচ্ছেদ অভিযান
সৌরভ মাহমুদ হারুন, ব্রাহ্মণপাড়াঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে এলাকার একশ্রেণির অসাধু প্রভাব শালীদের গড়ে তুলা চার শতাধিক অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।
এ উচ্ছেদ অভিযান চালায় সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত।
দীর্ঘদিন ধরে সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনার কারণে যানজট ও দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এতে প্রায় কয়েক হাজার ব্যবসায়ী শ্রমিকদের কপালে হাত। এই ব্যবসা মৌসুমে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা এখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্মসংস্থান হারিয়ে তারা দিশে হারা।
অপরদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী মানবাধিকার সভাপতি বাবুল হোসেন সহ অনেকে সওজের ( প্রশাসনের নিকট)তাদের ক্ষতিপূরণ দাবী করেেছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ উচ্ছেদ অভিযান বিকেল পর্যন্ত চলে।
অভিযানে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আসিফুল হক, সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, কুমিল্লা সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, বুড়িচং থানার ওসি মোহাম্মদ লুতফুর রহমান, ওসি তদন্ত আমিনুল ইসলাম চৌধুরী ও দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরেজিত বড়ুয়া এবং কুমিল্লা জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য অংশ নেন।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করা, সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্ঘটনা কমানোর লক্ষ্যে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এর আগে একাধিকবার অবৈধ দখলদারদের নোটিশ দিয়ে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়ে ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা তা না করায় বাধ্য হয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
সওজের কর্মকর্তারা তিনটি বুলডোজার নিয়ে নিমসার বাজার এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে মহাসড়কের দুই পাশে অভিযান চালান।
এ সময় সবজির আড়ত, হোটেল, কনফেকশনারি, কাপড় ও জুতার দোকান, মুদি দোকান, ফলের আড়ত, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। অনেক দোকান মালিককে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব দোকান স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছিল।
দীর্ঘদিন কোনো অভিযান না হওয়ায় দোকানগুলো স্থায়ী রূপ নেয় এবং ধীরে ধীরে সড়কের জায়গা দখল করে নেয়। ফলে ওই এলাকায় প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই থাকত।
এদিকে কুমিল্লা জেলা এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়নের সভাপতি ও স্থানী নিমসার বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ বাবুল হোসেন বলেন, ১০ বছর আগেও এখানে আমাদের স্থাপনা ছিল।
পরের সরকার আমাদের কাছ থেকে জায়গাগুলো একোয়ার করে নিয়ে যায়।
কিন্তু আমাদের টাকা বুঝিয়ে দেয়নি এবং আমাদের কাছ থেকে দলিলও নেয়নি। তাই আমরা আমাদের জায়গায় স্থাপনা করেছি। কিন্তু হঠাৎ করেই আজকে অভিযান চালিয়ে চার শতাধিক স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এতে অন্তত এক হাজার ব্যবসায়ী এবং লক্ষাদিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা এসবের ক্ষতিপূরণ চাই।
ওই জমিতে তিনি দোকান পাট নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে সংসার চালাতেন। এখন কয়েক হাজার ব্যবসায়ী, শ্রমিক কর্মচারী পথে বসে যাবে। এই সময়ে ব্যবসার একটি ভাল মৌসুম এবং ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়। ঠিক এসময়টা এখন সবার কপাল পুড়ল।
এ বিষয়ে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, মহাসড়ককে দখলমুক্ত রাখতে এবং জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে পুনরায় যেন কেউ অবৈধভাবে সড়কের জায়গা দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।