মনোহরগঞ্জে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ডাক্তার আর ওসির বাকবিতন্ডা-তদন্ত কমিটি গঠন

আইন আদালত কুমিল্লা চট্টগ্রাম জাতীয় রাজনীতি সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

মনোহরগঞ্জে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে
ডাক্তার আর ওসির বাকবিতন্ডা-তদন্ত কমিটি গঠন

মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

​​কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত এক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসির মধ্যে বাকবিতন্ডা, অশালীন আচরণ এবং মানসিক হেনস্তার অভিযোগে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (১ এপ্রিল) মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান,
স্বাস্থ্যকর্মী ও থানার ওসি শাহীনুর রহমানের সাথে।

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর সুপারিশ করেন।

একই সাথে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে তোলা ‘ওষুধ চুরির’ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছে কমিটি।

তদন্ত প্রতিবেদন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ‘পাবলিক অ্যাসল্ট’ বা গণপিটুনির শিকার নাঈম (৩০) নামের এক রোগীকে পুলিশ সদস্যরা জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

ওই সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। জখমের বিবরণ ও রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন।

 

ভুক্তভোগী চিকিৎসকের অভিযোগে আরো জানা যায় রোগীকে কুমিল্লায় স্থানান্তরের কথা শুনেই মনোহরগঞ্জ থানার ওসি হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং কোনো কারণ ছাড়াই চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন।

তিনি অত্যন্ত কর্কশ ভাষায় কথা বলেন এবং উপস্থিত সবার সামনে চিকিৎসকদের লক্ষ্য করে “চোর” ও “সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি করার” মতো মানহানিকর ও অশালীন অপবাদ দেন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা রোগীকে হাসপাতালেই ফেলে রেখে চলে যান।

যার ফলে রোগীর আইনি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া চরমভাবে বিঘ্নিত হয়।

 

এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াংকা চক্রবর্তী ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহরিয়ার ইনাম খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।

কমিটির পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওসির নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের আচরণ ছিল সম্পূর্ণ অপেশাদার এবং একজন গেজেটেড কর্মকর্তার প্রতি চরম অবমাননাকর। পুলিশের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়ে ছিল, তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াংকা চক্রবর্তী জানান, “হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।”

এছাড়াও ​তদন্ত কমিটি তাদের সুপারিশে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল চত্বরে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলেছে।

​এই ঘটনায় স্থানীয় চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তারা কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মোঃ শাহীনুর রহমান বলেন, গনদৌলাইয়ের শিকার এক রোগী জরুরী বিভাগে ১ ঘটনার অধিক পড়ে ছিল। ডাক্তার তাকে কোন সেবা না দেয়ায় আমি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে রোগী কুমিল্লায় স্থানান্তরের কথা জানিয়ে দেন। অশালীন ও বাকবিতন্ডার বিষয় সত্য নয়।


শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *