
শ্যামনগরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু-স্বামী আটক
আরাফাত আলী, শ্যামনগরঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে তামিমা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে হত্যার পর ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা হিসেবে ঘটনাটি সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের কেওড়াতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তামিমা আক্তার কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের শেখ তুহিনের মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের কেওড়াতলী গ্রামের রাশিদুজ্জামান রাজুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক বছরের একটি সন্তান রয়েছে।
নিহতের ভাই শেখ জাকির হোসেন জানান, দুপুরে তামিমার শ্বশুর নূর মোহাম্মদ ফোন করে তার বোনের আত্মহত্যার খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা তামিমার মরদেহ ঘরের বারান্দায় শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমার বোনের থুতনি ও ডান চোয়ালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
শ্বশুর নূর মোহাম্মদ ও শাশুড়ি রাশিদা বেগম প্রায়ই তাকে নির্যাতন করতেন। গত রাতেই ঈদের শপিং শেষে সে পরিবারের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেছে। সে আত্মহত্যা করার মতো কোনো পরিস্থিতিতে ছিল না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
জাকির হোসেন আরও জানান, স্বামী রাশিদুজ্জামান রাজু তার মা-বাবার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় স্ত্রীর ওপর নির্যাতন দেখেও কোনো প্রতিবাদ করতেন না।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী রাশিদুজ্জামান রাজুকে আটক করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্বজনরা মরদেহ নামিয়ে ফেলেছিলেন।
নিহতের ভাই একটি মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনার পর থেকেই নিহত তামিমার শ্বশুর নূর মোহাম্মদ ও শাশুড়ি রাশিদা বেগম পলাতক রয়েছেন।
তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।