
চাকরি জীবনের শেষ দিনে লাকসামে দুই শিক্ষকের ব্যতিক্রমী বিদায় সংবর্ধনা
লাকসাম প্রতিনিধিঃ
চাকরি জীবনের শেষ দিনে দুই শিক্ষকে ফুলে সাজানো গাড়িতে ঘোরানো হলো কয়েক কিলোমিটার। দেওয়া হলো বিদায়ী সংবর্ধনা।
কর্মময় জীবন থেকে এভাবেই বিদায় নিলেন আরবী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এএইচএম নুরুল্লাহ। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মরহুম মৌলভী আব্দুল মজিদের ছেলে ও মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী জহিরুল আমিন।
কুমিল্লার লাকসাম দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদরাসায় অনুষ্ঠিত হয় এ শিক্ষকের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কর্মময় জীবন থেকে বিদায় নেন তারা। এ উপলক্ষে দুপুরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শিক্ষক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লাকসাম দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ডঃ মাওলানা আব্দুল হান্নান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লাকসাম দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ডঃ আমিনুল ইসলাম।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন লাকসাম দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদরাসার হেড মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হালিম, শিক্ষক প্রতিনিধি অধ্যাপক মোঃ হোসাইন আহমেদ, দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদরাসার প্রাক্তন ছাত্র মাওলানা রেজাউল হক।
দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদরাসার প্রাক্তন ছাত্র মাওলানা রেজাউল হক বলেন, ‘আমি আরবী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এএইচএম নুরুল্লাহ ও সহকারী মৌলভী জহিরুল আমিনের
ছাত্র ছিলাম। উনাদের দেওয়া শিক্ষা নিয়ে আজ আমরা নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত। আদর্শ শিক্ষকরা আজ চাকরি থেকে বিদায় নিলেন। আপনারা ভালো থাকুন সব সময়।’
শিক্ষক প্রতিনিধি অধ্যাপক মোঃ হোসাইন আহমেদ বলেন, উনারা দুইজন শুধু পড়াশোনা নয়; বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করতেন। বাকিটা জীবন সুস্থতায় কাটুক, এই কামনা করি।’
দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদরাসার হেড মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, উনারা দুইজন শুধু শিক্ষক ছিলেন না। দ্বীনের ইলেম ও নৈতিক শিক্ষা অর্জনের জন্য সব সময় কঠোর ছিলেন। আজ থেকে উনাদের সঙ্গ পাবো না।
আমি তাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।
দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ডঃ আমিনুল ইসলাম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, উনারা এত আর্দশবান শিক্ষক ছিলেন যাদের অনুপ্রেরণায় আমরাও অনেক কিছু জানতে পারলাম। তাদের দেয়া শিক্ষা গ্রহণ করে অনেকেই আজ সফলতার উচ্চ শিখরে অবস্থান করছে। উনারা আমাদের অনুকরণীয়।
প্রধান অতিথি ছিলেন লাকসাম দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ডঃ মাওলানা আব্দুল হান্নান বলেন, আজ এ প্রতিষ্ঠানের আরবী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এএইচএম নুরুল্লাহ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মরহুম মরহুম মৌলভী আব্দুল মজিদের ছেলে ও মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী জহিরুল আমিনের বিদায়ে এ মাদ্রাসার ২টি সম্পদের বিদায় সংবর্ধনা দিচ্ছে। তাদের শুন্যতা অনুভব হবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে। আমি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে উনাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। কর্ম জীবনে চলার পথে যদি মনে কষ্ট দিয়ে থাকি ক্ষমা করে দিবেন।
বিদায়ী আরবী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এএইচএম নুরুল্লাহ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মরহুম মৌলভী আব্দুল হাকিমের ছেলে ও মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী জহিরুল আমিন
কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আরবী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এএইচএম নুরুল্লাহ বলেন, আমি এ প্রতিষ্ঠানে আজ ৪০ বছর চাকুরী করেছি। শিক্ষার্থীদের সব সময় পড়াশোনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছি। পরিশেষে কর্মময় জীবনে কোনো ধরনের ভুলত্রুটি করে থাকলে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। বাকি জীবন যেন পরিবার-পরিজন নিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অতিবাহিত করতে পারি, সবার কাছে সেই দোয়া কামনা করছি।’
স্মরণীয় বিদায় প্রসঙ্গে সহকারী মৌলভী জহিরুল আমিন বলেন, ‘আমার চাকরিজীবনের শেষ দিনে এমন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিদায় নিতে হবে যা ছিল কল্পনাতীত। এটা আমার জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি। যা বাকি জীবনটুকুতে মনে রাখার মতো।’
শিক্ষক আরবী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এএইচএম নুরুল্লাহ ও সহকারী মৌলভী জহিরুল আমিন আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী তাদের কর্ম জীবন শেষ করবেন।
বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। এসময় মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।