আমরা পেছনের দিকে দৌঁড়বো না, যুবকদের স্বপ্নের অগ্রগামী বাংলাদেশ দেখতে চাই-ডাঃ শফিকুর রহমান

কুমিল্লা চট্টগ্রাম জাতীয় রাজনীতি সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

আমরা পেছনের দিকে দৌঁড়বো না, যুবকদের স্বপ্নের অগ্রগামী বাংলাদেশ দেখতে চাই-ডাঃ শফিকুর রহমান

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর:

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশবাসী রাজনীতির পুরোনো বন্দোবস্ত দেখেছে, ৫৪ বছর দেখেছে। পেছনের দিকে দৌড়বো না, যুবকদের স্বপ্নের অগ্রগামী বাংলাদেশ দেখতে চাই। সে বন্দোবস্তে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়েছে, মানুষের অধিকার হরণ করেছে, দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। চাঁদাবাজিতে জনগণকে অতিষ্ঠ করেছে।

জনগণের কেনা অস্ত্র দিয়ে জনগণের বুকে গুলি ছুঁড়েছে। যে রাজনীতি আমার মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছে ওই রাজনীতি আবার ফিরে আসুক আমরা চাই না। জনগণ যদি তাদের পবিত্র মূল্যবান ভোট দিয়ে ১১ দলীয় জোটকে নির্বাচিত করে, আমরা জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেবো না। পুরোনো কাসুন্দি নিয়ে কামড়া কামড়ি করবো না।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি লক্ষ্মীপুর-১ আসনের শাপলা কলির প্রার্থী মাহবুব আলম, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রুহুল আমিন ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী ড. রেজাউল করিম ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের প্রার্থী হাফিজ উল্যাহর হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দেন।

শফিকুর রহমান বলেন, যুবকরা, আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেব না। তোমরা বেকার ভাতার জন্য কোনো দাবি জানাওনি। বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদের অপমানিত করতে চাই না। তোমাদের হাতগুলোকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলবো। প্রত্যেকের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেবো। সেদিন প্রতিটি যুবক গর্বের সঙ্গে বলবে যে, ‘আমিই বাংলাদেশ। আমায় দেখে বুঝে নাও বাংলাদেশ কী জিনিস।’ আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে দিতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই।

আমাদের ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে ৬২ শতাংশ প্রার্থী হচ্ছেন যুবক। বার্তা দিচ্ছি, আগামীর দেশ হবে যুবকদের বাংলাদেশ। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, আপনারা একদিকে বলছেন, মায়েদের হাতে আপনারা ফ্যামিলি কার্ড দেবেন, আরেকদিকে সেই মায়ের গায়েই আপনারা হাত দিচ্ছেন। আপনারা মায়েদের কীভাবে দেখবেন এখনই বোঝা যাচ্ছে। সকালের সূর্য দেখলেই বুঝা যায় সারাদিন কেমন যাবে। ভোটের আগের আবহ দেখলে বুঝা যায় কেউ নির্বাচিত হলে আগামীটা কেমন হবে।

তিনি আরও বলেন, মনে রাখবেন, সেদিন যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া জাতি ক্ষমা করেনি, গর্জে উঠেছিল, ফুঁসে উঠেছিল, আজকেও মেয়েদের গায়ে হাত দিচ্ছেন, নিজেদের কবর রচনা করবেন।

তিনি বলেন, দেশবাসী রাজনীতির পুরোনো বন্দোবস্ত দেখেছে, ৫৪ বছর দেখেছে। সে বন্দোবস্তে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়েছে, মানুষের অধিকার হরণ করেছে, দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। চাঁদাবাজিতে জনগণকে অতিষ্ঠ করেছে। জনগণের কেনা অস্ত্র দিয়ে জনগণের বুকে গুলি ছুঁড়েছে। যে রাজনীতি আমার মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছে ওই রাজনীতি আবার ফিরে আসুক আমরা চাই না।

জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এটিএম মাছুম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি আতিকুর রহমান, ঢাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, শিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ সাহেদী, জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম ও চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব প্রমুখ।


শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *