
ভারতের সঙ্গে আঁতাত করে ১টি দল
ক্ষমতায় আসতে চায়: আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের
চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধিঃ
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, একটি দল ভারতের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় আসতে চায়। তারা ভারতের সঙ্গে আপস করে দেশ শাসনের জন্য বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিতে চায়। তবে তাদের সেই স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবে না। এ দেশের মানুষ আর চার কোটি যুবক এটা কখনোই হতে দেবে না।
শুক্রবার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এ কথা বলেন।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে এই জামায়াত নেতা বলেন, একটি দল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করছে। তাদের এই কার্ড ভুয়া।
চিফ ইলেকশন কমিশনার বলেছেন, এটা বেআইনি। যাঁরা কার্ড নিয়ে যাবেন, তাঁদের আটকাবেন। এগুলা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে আমরা কি আবারও ফ্যাসিবাদে ফিরে যাব, অন্ধকারনিমজ্জিত দেশে পরিণত হব, নাকি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব। এটা নির্ধারণ করবে এই দেশের জনগণ।’
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় জোট ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে সরকার গঠন করবে বলে আত্মবিশ্বাসী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘আপনার জানেন, আমরা একটি ১০-দলীয় জোট গঠন করেছি। এই দলে সমস্ত ইসলামি দল আছে। সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক দল, পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধাদের অন্যতম দল এনসিপি রয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের সমর্থন নিয়ে এই জোট সরকার গঠন করবে। স্বৈরাচারের পতনের পর গত দেড় বছরে এই দেশে কারা চাঁদাবাজি করে আসছে, তা মানুষ জানে। সাধারণ মানুষ আমাদের বলেন, আগে ১০ টাকা চাঁদা দিলে এখন ২০ টাকা দিতে হয়। এই চাঁদার শিকার হচ্ছে এ দেশের রিকশাওয়ালা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।’
‘আমরাই সরকার গঠন করব’
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, তাদের জোটের অধীনে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে যেখানে বিভাজনের রাজনীতি আর জিইয়ে রাখা হবে না।
তিনি বলেন, ‘একতার রাজনীতির মধ্য দিয়ে ফরোয়ার্ড লুকিং বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। তবে আমাদের সবাইকে আরও সতর্ক হতে হবে।
১২ তারিখে পরবর্তী বাংলাদেশের গতিপথ নির্ধারিত হবে। যারাই ভয় দেখাক না কেন, ১২ তারিখ অবশ্যই আমাদের ভোট দিতে আসতে হবে।’
ভোটের অধিকারের জন্য গত ১৭ বছর লড়াই–সংগ্রাম হয়েছে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘যাঁরা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চিন্তা করছেন, আপনারা সাবধান হয়ে যান। যাঁরা কেন্দ্র দখল করতে আসবেন, যদি আপনাদের এ চিন্তা থাকে, তাহলে বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হবেন। এই জনগণকে নিয়ে যে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কথা রয়েছে, ১২ তারিখের পর আমরাই সরকার গঠন করব, ইনশা আল্লাহ।’

সবার জন্য সমমর্যাদার বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যে বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, একইভাবে দ্বিমত প্রকাশেরও স্বাধীনতা থাকবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে বাংলাদেশে আপনি হিন্দু হন বা মুসলমান হন, পাহাড়ি হন কিংবা সমতলের মানুষ হন, খ্রিষ্টান হন বা সাঁওতাল হন, আপনার আলাদা এমন কোনো পরিচয় থাকবে না, বরং আপনি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সমমর্যাদা নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন।’
জামায়াত প্রার্থীর চিওড়া ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মহিন উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মু. মাহফুজুর রহমান, সাবেক আমির সাহাব উদ্দিন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভুঁইয়া, খেলাফত মজলিশ উপজেলা সভাপতি মাওলানা শাহজালাল, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন প্রমুখ।