সুন্দরগঞ্জে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে শঙ্কায় স্থিতিশীল পরিবেশ দাবি

আইন আদালত জাতীয় রংপুর রাজনীতি সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

সুন্দরগঞ্জে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড

নিয়ে শঙ্কায় স্থিতিশীল পরিবেশ দাবি

 
এবি সিদ্দিক, গাইবান্ধাঃ 
  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ২৯, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সমান অধিকার) নিশ্চিত কনণসহ প্রকৃত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে নির্বাচনী স্থিতিশীল পরিবেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, সাধারণ ভোটারসহ সকল শ্রেণির মানুষজন।
 তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, আসন্ন নির্বাচনে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নের ১২৩টি ভোটকেন্দ্রের ৭৭১টি বুথে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ আসনে ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ১১১জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭ হাজার ৫৭৪, মহিলা ২ লাখ ১১ হাজার ৫৩৪ ও হিজড়া ৩ জন।
 যা, গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে স্থির সংখ্যার চেয়ে বেশি ২৬ হাজার ৬৭ জন ভোটার। এতে তরুণ ভোটারের সংখ্যা ১৬ থেকে ১৭ হাজার হতে পারে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট একটি দপ্তর।২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল এ আসনে ১০ম বারের মত নির্বাচন। এ নির্বাচনে ভোটারের স্থির সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫১, মহিলা ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯২ ও হিজড়া ১ জন।
 অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র:
 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্ধারিত ১২৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ২৯ হাজার ৬৪৮ জন।
 কেন্দ্রগুলো হলো- লাটশালার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোটার ১ হাজার ৯৫৯),পঞ্চানন আরইউ দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রাসা (ভোটার ৩ হাজার ৫৯৫), মহিষবান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোটার ৩ হাজার ৩৫৫), গোপালচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (সংযুক্ত) গোপালচরণ উচ্চ বিদ্যালয় (মোট ভোটার ৪ হাজার ১৫৮), উত্তর সাহাবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোটার ৩ হাজার ৫৬১), পরান বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোটার ৪ হাজার ২৫), চর-চরিতাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোটার ১ হাজার ৮৬৭), কানি-চরিতাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোটার ২ হাজার ৭৭১), চর-কাপাসিয়া ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোটার ১ হাজার ৩২৭), ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোটার ১ হাজার ৪৪৯) ও উজান বুড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোটার ১ হাজার ৫৮১)।
 
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে প্রতিক্রিয়া: 
  এ নিয়ে অধিকাংশ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, সচেতনমহল ও সাধারণ ভোটারগণ প্রতিক্রিয়ায় বলেন- ‘নির্বাচনে এসব কেন্দ্রের চেয়েও প্রকৃতপক্ষে যেসব ভোটকেন্দ্র আরো অধিক ঝুঁকিপূর্ণরূপ ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে। সেসব ভোট কেন্দ্রের নাম নেই’। তাঁদের মতে ‘প্রয়োজনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও নিখুঁতভাবে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ পূর্বক নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করে নির্বাচন সংক্রান্ত সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোড়দারের প্রয়োজন। এ জন্য তাঁরা সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের সু-নজর কামনা করছেন’।
 
গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মন্তব্য:
 ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতা ও শান্তিকামী এ নির্বাচনী এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষজন সার্বিক নিরাপত্তাসহ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি করছেন। একই সঙ্গে গণভোটের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট বা সঠিক ধারণা খুঁজছেন। তাঁরা বলছেন- ‘শেষ পর্যায়ে এসে মুক্তিযোদ্ধা কোঠার বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হলো। এখন গণভোটের মাধ্যমে যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হয়। তাহলে ফের কোনো কোঠা প্রথা চালু হবে কী? যদি নতুন কোনো কোঠা চালু হয়। তবে, প্রকৃত মেধা, সাধারণ মানুষের স্বপ্নযাত্রা আর আস্থা যাবে কোথায়’?
 -মতামত সাপেক্ষ প্রশ্নোত্তর খুঁজছেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে ৬নং সেক্টরের সেকশন কমান্ডর বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান আব্দুল হামিদ। তিনি দীর্ঘদিন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডর, ডেপুটি কমান্ডর ও সচিবসহ বিভিন্ন সময় পর্যায়ক্রমে নানান পদে দায়িত্ব পালন করার কথা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদান করা বর্তমান সরকারের গুরু দায়িত্ব। এ দায়িত্বে ব্যর্থ হলে নিরাপত্তার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকতে হবে সাধারণ মানুষকে।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদান:
 আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে- জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে যারা নির্বাচনী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ১২ জন। যথানিয়মে মনোনয়নপত্র জমা দেন ১০ জন। এরা হলেন- সাবেক এমপি জাতীয় পার্টি (জাপা) মহা-সচিব আলহাজ্ব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (জাপা), উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান (সদ্য অপসারিত) জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা- জেলা জাপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন সরদার (স্বতন্ত্র), উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর সহকারি অধ্যাপক মাজেদুর রহমান (জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ), অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়া, (বিএনপি), মাহফুজুল হক সরদার (জাতীয় পার্টি-আর), উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান (সদ্য অপসারিত) সালমা আক্তার (স্বতন্ত্র), শরিফুল ইসলাম (এলডিপি), পরমানন্দ দাস (বাসদ, মার্কসবাদী), কওছর আজম হান্নু (আমজনতার দল) ও রমজান আলী (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)।
 এছাড়া, আব্দুল মান্নান (জেএসডি) ও আরেফিন আজিজ সরদার সেন্টু (স্বতন্ত্র) পদ-প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও তারা যথানিয়মে জমা দেননি।
 
প্রচারণামূলক কার্যক্রম:
 আগে থেকেই নানাভাবে নির্বাচনী প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন- একক প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের খন্দকার মাজেদুর রহমান, বিএনপির খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়া ও জাপার ইঞ্জিঃ মোস্তফা মহসিন সরদার (উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সদ্য অপসারিত)। এছাড়া, অন্যান্য প্রার্থীগণকে নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালাবেনা বলে একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।
 অধিকাংশ প্রার্থীর মতে-
 আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশ প্রার্থী শঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁরা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন তুলে ধরে বলেন- ‘সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য যে কেন কার্যক্রমেই সমান অধিকারের নিশ্চয়তা দরকার’। বিরাজমান পরিস্থিতি নিরসন করে স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন’। যে কোন ধরণের সহিংসতাহীন ও নিরাপত্তার উচ্চ ঝুঁকি থেকে মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। ভোটে নিশ্চিত হেরে যাওয়া ভেবে বা নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে জন নিন্দিত (ঘৃণীত) মুক্তিযুদ্ধ পরিপন্থি বিশেষ দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা এখনই তান্ডব চালানোর মতো নানান অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এসব অপতৎপরতা প্রতিরোধ করতে হবে। সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ফলাফল নিশ্চিত হয়ে ঘরে ফিরে শান্তিতে ঘুমাতে পারেন। প্রশাসনিকভাবে এ ধরণের পরিবেশ আনতে হবে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত প্রশাসনকে নিরপেক্ষ বা সকল প্রার্থীর ক্ষেত্রে সমান অধিকার নিশ্চয়তাদানে তেমন কোন ভূমিকায় দেখা যাচ্ছেনা’।
 এদের কেউ কেউ বলছেন- ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বলেন- প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে একটি বিশেষ দলের লোকজন সার্বক্ষণিক বসে থেকে খবরদারী করছে। বিশেষ দলটির অশুভ প্রভাবে প্রশাসনিক দপ্তরের প্রধানরা প্রভাবিত হচ্ছেন। এটাকে তাঁরা পক্ষপাত দুষ্ট আচরণ। নির্বাচনে জোড় করে হেরে দেয়ার মতো পরিস্থিতি বিরাজ করায় কোনরূপ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা’। সম্ভাব্য পার্থীরা আরো বলেন- ‘একটি বিশেষ দলের লোক গণমাধ্যমকর্মী না হয়েও একটি প্রেস ক্লাবের নামে কমিটি দেখিয়ে রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে প্রধান প্রধান পদে ঐ দলের নেতা-কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত দেখিয়েছে। তারা প্রশাসনিক ম্যাসেজ হাতে রাখতে প্রকৃত মুক্তচিন্তার গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট দূরে রেখেছে। এমনকি, তারা প্রেস ক্লাবের পদ-পদবী দেখিয়েও অফিস পাহাড়ায় নিয়োজিত রয়েছে। এভাবেও অশুভ প্রভাব খাটিয়ে দলটির মনোনীত প্রার্থী পক্ষ-পাতিত্বমূলক অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। এতে, মুক্তধারার সংবাদমাধ্যমে সব প্রার্থী বা দলের বক্তব্য প্রচারে সমান সুযোগ না থাকার আশঙ্কা বিদ্যমান। এ অবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা হবে অত্যন্ত বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ’। প্রার্থীদের অধিকাংশই বলেন- ‘ভোট গ্রহণের জন্য ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে শতাধিক কেন্দ্রই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে মনে করছেন। শুধু তাই না; এ নির্বাচনী এলাকার অধিকাংশ কেন্দ্রেই নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নির্বাচনে নিয়োজিত প্রার্থীদের নেতা-কর্মী, প্রতিনিধি, সাধারণ ভোটারসহ সকলেই নিরাপত্তার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে দিনক্ষণ বদলে বদলে বিশেষ দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা তাদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রভাব খাটাচ্ছেন, এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। বিশেষ এ দলটি ক্ষমতায় না এলেও বর্তমানে রাষ্ট্রে অপ-ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। যাতে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন (নির্বাচন কমিশনসহ) সম্পূর্ণরূপে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি মোতাবেক সমানভাবে কার্যকর করতে না পারে। এ অপ-তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। যা, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্তরায় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা’।
 ​তাঁরা আরো বলছেন- ‘যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকে, তবে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলেও প্রতিযোগিতামূলক হবেনা। কারণ, একটি পক্ষ রাষ্ট্রযন্ত্র বা বাড়তি ক্ষমতা ব্যবহার করে জয়ী হবার পথে এগিয়ে থাকা গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করছেন’।
 এ ব্যাপারে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল ইসলামা জানান, বিশেষ কোন রাজনৈতিক দলের লোকজন থানায় অহেতুক অবস্থান করার কথাটা সঠিক নয়, এটা ভুয়া কথা।
 উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার ইফফাত জাহান তুলি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সবার জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করে সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সমান সুযোগ থাকবে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি হতে পারে আমরা সে বিষয়টি দেখবো, বিবেচনা করে এ সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি বিশেষ দলের (রাজনৈতিক সংগঠনের) লোকজন শিফট বদলে বদলে তাঁর দপ্তর, থানাসহ অন্যান্য প্রশাসনিক দপ্তরে অবস্থান নিয়ে থাকার কারণে অন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাঁদের পক্ষে কোন ব্যক্তি নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে কিছু বলতে পারছেননা বা তাঁদের বিঘ্ন ঘটছে এ বিষয়ে কিছু জানা নেই। পরিলক্ষিত হলে বিষয়টি দেখা যাবে।
জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থীর বক্তব্য:
  লাঙ্গল প্রতীকে মনোনীত প্রার্থী জাতীয় পার্টি (জাপা) মহা-সচিব সাবেক এমপি আলহাজ্ব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন- ‘আমরা আশা করছি ভোট সষ্ঠু হবে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে। আমরা বিভিন্ন সময় প্রহসনের ছকের আভাস পাচ্ছি। এখানে মানুষ জাতীয় পার্টির হিসেবে আমাকেসহ ৭ বার নির্বাচিত করেছে। আসনটি জাতীয় পার্টির শক্তঘাটি হিসেবে সু-পরিচিতি। সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো বলে আশাবাদী। আমরা বিভিন্নভাবে সারাদশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এখনো মানুষ গ্রেপ্তার ও মব আতঙ্কের মধ্যে আছে, মানুষ এখনো মব সন্ত্রাসের ভয়ে ভীতু। সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে বিপুল ভোটে জয় লাভের আশাবাদী। বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। এটিই নির্বাচন কমিশনের এবং নির্বাচনের পূর্ব শর্ত। একটা নির্দিষ্ট ভোটের আশঙ্কাও আমাদের মধ্যে আছে। কিন্তু, আমরা যেহেতু গণতান্ত্রিক দল, -৭১’র পক্ষে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক দল, নির্বাচনমূখী দল। এজন্য জাতীয় পার্টি নির্বাচনের ট্রেনে ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আমরা গভীরভাবে সরকারের, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবো এবং সময় সময় আমরা আমাদের সিদ্ধান্তলোকে সঠিকভাবে নিব। আমরা ভোট করতে চাই, আমাদের নেতা-কর্মীরা ভোটের জন্য উম্মুখ হয়ে আছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন যদি বিমাতাসুলভ আচরণ করে, প্রশাসন যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে। তখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিব। পাশাপাশি বিগত তফশীল প্রিয়ডে শহিদ ওসমান হাদীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সে সময় দেশে স্বভাবিকভাবেই অরাজকতা ছিল। তার (ওসমান হাদীর) মৃত্যুর সংবাদে ২/৩ দিন ঢাকা শহরে তীব্র অস্থিরতা ছিল, ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো অফিসে, ছায়ানটে আগুন দেয়া হয়েছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। এ ধরণের ঘটনাগুলো নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করেছে। ফলে, অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের অনেক প্রার্থীই সঠিকভাবে মনোনয়ন উত্তোলন করতে পারেনি, জমা দিতেও পারেনি। উচিৎ ছিল এ সময়টা আর একটু পিঁছিয়ে দেয়া। পাশাপাশি জাতীয় পার্টির ৩ জন উল্লেখযোগ্য প্রার্থী একজন সাবেক সংসদ সদস্য এখনো জেলে আছে। তফশীল প্রিয়ডেও তাদেরকে জামিন দেয়া হচ্ছেনা, তারা প্রার্থী হওয়া সত্বেও। সরকরের  প্রতি আকুল আবেদন জানাবো প্রার্থীকে জেলে রাখা কখনো নির্বাচনের সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারেনা। প্রার্থীদেরকে ছেড়ে দিতে হবে। পাশাপাশি এয়ারপোর্টের সমস্যার কারণে আমাদের ৩ থেকে ৪ জন প্রার্থী এয়ার করতে পারেনি। যে কারণে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে প্রার্থী দিতে পারিনি’।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর বক্তব্য:
  জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ (দাঁড়িপাল্লা) মনোনীত প্রার্থী, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সহকারি অধ্যাপক খন্দকার মাজেদুর রহমান বলেন, ‘এখনো পুরোপুরি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেখছিনা, এখনো সন্ত্রাসী গডফাদারদেরকে ধরছেনা, তাদেরকে প্রশাসন ভয় পায়। সন্ত্রাসী গডফাদারদেরকে ধরতে হবে। তিনি আরো বলেন- নির্বাচিত হলে, তার দল ক্ষমতায় আসলে চাকরি পেতে ডোনেশনের নামে যে লাখ লাখ টাকা দিতে হয়, আজকের তরুণ বা ছাত্রদেরকে চাকরি পেতে তা আর দেয়া লাগবেনা। বেকার সমস্যা সমাধানে গ্যাসলাইন সংযোগ, কলকারখানাসহ চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করবো’।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর বক্তব্য:
 উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান (সাম্প্রতিক অপসারিত) ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন সরদার বলেন- তরুণ, ছাত্র, বেকারসমস্যা ছাড়াও অত্র উপজেলাবাসীর সব ধরণের সমস্যা বা সমস্যবলী সম্পর্কে আগে থেকেই জানি। সে লক্ষ্যে ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভবিষ্যতে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে এ উপজেলাবাসীর সেবা করে যেতে চাই।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বক্তব্য:
  ধানের শীষ প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডাক্তার খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন- প্রচারণায় ভোটারদের ব্যাপক সাড়া আছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হবো।
স্বতন্ত্র প্রার্থী:
 বিএনপি নেতা আরেফিন আজিজ সরদার সেন্টু বলেন- সিদ্ধান্তের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বচান করার ইচ্ছা না থাকায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেইনি।
জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থীর বক্তব্য:
  লাঙ্গল প্রতীকে মনোনীত প্রার্থী জাতীয় পার্টি (জাপা) মহা-সচিব সাবেক এমপি আলহাজ্ব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন- ‘আমরা আশা করছি ভোট সষ্ঠু হবে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে। আমরা বিভিন্ন সময় প্রহসনের ছকের আভাস পাচ্ছি। এখানে মানুষ জাতীয় পার্টির হিসেবে আমাকেসহ ৭ বার নির্বাচিত করেছে। আসনটি জাতীয় পার্টির শক্তঘাটি হিসেবে সু-পরিচিতি। সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো বলে আশাবাদী। আমরা বিভিন্নভাবে সারাদশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এখনো মানুষ গ্রেপ্তার ও মব আতঙ্কের মধ্যে আছে, মানুষ এখনো মব সন্ত্রাসের ভয়ে ভীতু। সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে বিপুল ভোটে জয় লাভের আশাবাদী। বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। এটিই নির্বাচন কমিশনের এবং নির্বাচনের পূর্ব শর্ত। একটা নির্দিষ্ট ভোটের আশঙ্কাও আমাদের মধ্যে আছে। কিন্তু, আমরা যেহেতু গণতান্ত্রিক দল, -৭১’র পক্ষে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক দল, নির্বাচনমূখী দল। এজন্য জাতীয় পার্টি নির্বাচনের ট্রেনে ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আমরা গভীরভাবে সরকারের, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবো এবং সময় সময় আমরা আমাদের সিদ্ধান্তলোকে সঠিকভাবে নিব। আমরা ভোট করতে চাই, আমাদের নেতা-কর্মীরা ভোটের জন্য উম্মুখ হয়ে আছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন যদি বিমাতাসুলভ আচরণ করে, প্রশাসন যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে। তখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিব। পাশাপাশি বিগত তফশীল প্রিয়ডে শহিদ ওসমান হাদীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সে সময় দেশে স্বভাবিকভাবেই অরাজকতা ছিল। তার (ওসমান হাদীর) মৃত্যুর সংবাদে ২/৩ দিন ঢাকা শহরে তীব্র অস্থিরতা ছিল, ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো অফিসে, ছায়ানটে আগুন দেয়া হয়েছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। এ ধরণের ঘটনাগুলো নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করেছে। ফলে, অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের অনেক প্রার্থীই সঠিকভাবে মনোনয়ন উত্তোলন করতে পারেনি, জমা দিতেও পারেনি। উচিৎ ছিল এ সময়টা আর একটু পিঁছিয়ে দেয়া। পাশাপাশি জাতীয় পার্টির ৩ জন উল্লেখযোগ্য প্রার্থী একজন সাবেক সংসদ সদস্য এখনো জেলে আছে। তফশীল প্রিয়ডেও তাদেরকে জামিন দেয়া হচ্ছেনা, তারা প্রার্থী হওয়া সত্বেও। সরকরের  প্রতি আকুল আবেদন জানাবো প্রার্থীকে জেলে রাখা কখনো নির্বাচনের সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারেনা। প্রার্থীদেরকে ছেড়ে দিতে হবে। পাশাপাশি এয়ারপোর্টের সমস্যার কারণে আমাদের ৩ থেকে ৪ জন প্রার্থী এয়ার করতে পারেনি। যে কারণে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে প্রার্থী দিতে পারিনি’।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর বক্তব্য:
  জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ (দাঁড়িপাল্লা) মনোনীত প্রার্থী, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সহকারি অধ্যাপক খন্দকার মাজেদুর রহমান বলেন, ‘এখনো পুরোপুরি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেখছিনা, এখনো সন্ত্রাসী গডফাদারদেরকে ধরছেনা, তাদেরকে প্রশাসন ভয় পায়। সন্ত্রাসী গডফাদারদেরকে ধরতে হবে। তিনি আরো বলেন- নির্বাচিত হলে, তার দল ক্ষমতায় আসলে চাকরি পেতে ডোনেশনের নামে যে লাখ লাখ টাকা দিতে হয়, আজকের তরুণ বা ছাত্রদেরকে চাকরি পেতে তা আর দেয়া লাগবেনা। বেকার সমস্যা সমাধানে গ্যাসলাইন সংযোগ, কলকারখানাসহ চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করবো’।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর বক্তব্য:
  উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান (সাম্প্রতিক অপসারিত) ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন সরদার বলেন- তরুণ, ছাত্র, বেকারসমস্যা ছাড়াও অত্র উপজেলাবাসীর সব ধরণের সমস্যা বা সমস্যবলী সম্পর্কে আগে থেকেই জানি। সে লক্ষ্যে ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভবিষ্যতে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে এ উপজেলাবাসীর সেবা করে যেতে চাই।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বক্তব্য:
  ধানের শীষ প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডাক্তার খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন- প্রচারণায় ভোটারদের ব্যাপক সাড়া আছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হবো।
স্বতন্ত্র প্রার্থী:
 বিএনপি নেতা আরেফিন আজিজ সরদার সেন্টু বলেন- সিদ্ধান্তের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বচান করার ইচ্ছা না থাকায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেইনি।
এলডিপি মনোনীত প্রার্থীর বক্তব্য:
  লেবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ছাতা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম বলেন- আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। নির্বাচিত হলে তরুণ ভোটারদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো। এ নির্বাচন উপলক্ষ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রের যে তালিকা করা হয়েছে। এতে নিজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেকাটারী বিদ্যালয়, রামজীবন, খানাবাড়ি, সীচা শুভজান, ধুমাইটারিসহ শতাধিক কেন্দ্রের নাম অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।
  এছাড়া, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন- ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বলেন- প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে একটি বিশেষ দলের লোকজন সার্বক্ষণিক বসে থেকে খবরদারী করছে। বিশেষ দলটির অশুভ প্রভাবে প্রশাসনিক দপ্তরের প্রধানরা প্রভাবিত হচ্ছেন। এটাকে তাঁরা পক্ষপাত দুষ্ট আচরণ। নির্বাচনে জোড় করে হেরে দেয়ার মতো পরিস্থিতি বিরাজ করায় কোনরূপ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা’। সম্ভাব্য পার্থীরা আরো বলেন- ‘একটি বিশেষ দলের লোক গণমাধ্যমকর্মী না হয়েও একটি প্রেস ক্লাবের নামে কমিটি দেখিয়ে রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে প্রধান প্রধান পদে ঐ দলের নেতা-কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত দেখিয়েছে। তারা প্রশাসনিক ম্যাসেজ হাতে রাখতে প্রকৃত মুক্তচিন্তার গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট দূরে রেখেছে। এমনকি, তারা প্রেস ক্লাবের পদ-পদবী দেখিয়েও অফিস পাহাড়ায় নিয়োজিত রয়েছে। এভাবেও অশুভ প্রভাব খাটিয়ে দলটির মনোনীত প্রার্থী পক্ষ-পাতিত্বমূলক অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। এতে, মুক্তধারার সংবাদমাধ্যমে সব প্রার্থী বা দলের বক্তব্য প্রচারে সমান সুযোগ না থাকার আশঙ্কা বিদ্যমান। এ অবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা হবে অত্যন্ত বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ’। প্রার্থীদের অধিকাংশই বলেন- ‘ভোট গ্রহণের জন্য ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে শতাধিক কেন্দ্রই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে মনে করছেন। শুধু তাই না; এ নির্বাচনী এলাকার অধিকাংশ কেন্দ্রেই নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নির্বাচনে নিয়োজিত প্রার্থীদের নেতা-কর্মী, প্রতিনিধি, সাধারণ ভোটারসহ সকলেই নিরাপত্তার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে দিনক্ষণ বদলে বদলে বিশেষ দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা তাদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রভাব খাটাচ্ছেন, এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। বিশেষ এ দলটি ক্ষমতায় না এলেও বর্তমানে রাষ্ট্রে অপ-ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। যাতে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন (নির্বাচন কমিশনসহ) সম্পূর্ণরূপে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি মোতাবেক সমানভাবে কার্যকর করতে না পারে। এ অপ-তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। যা, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্তরায় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা’।
 ​তাঁরা আরো বলছেন- ‘যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকে, তবে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলেও প্রতিযোগিতামূলক হবেনা। কারণ, একটি পক্ষ রাষ্ট্রযন্ত্র বা বাড়তি ক্ষমতা ব্যবহার করে জয়ী হবার পথে এগিয়ে থাকা গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করছেন’।
 উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাই গত ৩০ ডিসেম্বর (২০২৬ সাল) থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল দায়েরের সময় ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি, নিষ্পত্তি ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ, ২১ জানুয়ারি, প্রচারণা শুরু ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা পর্যন্ত, ভোট গ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি।
 রাজনৈতিক দলের অবস্থান:
 ২৯, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত প্রার্থীই লাঙ্গল প্রতীকে পূর্ণ মেয়াদে ৫ বার, মহাজোট মনোনীত (লাঙ্গল) ১ বার, ৪ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত (দাঁড়িপাল্লা), ১বার স্বতন্ত্র ও আ’লীগের (নৌকা) ১ বার নির্বাচিত হয়। পরবর্তীতে উপ-নির্বাচনে আ’লীগের (নৌকা) ১বার ও জাপা (লাঙ্গল) মনোনীত প্রার্থী ১ বার নির্বাচিত হন। এ আসনে জাতীয় পার্টি (জাপা) তথা লাঙ্গল প্রতীকে মনোনীত প্রার্থীই বার বার নির্বাচিত হওয়ায় জাতীয় সংসদের এ আসনটি জাপা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সার্কের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ প্রিয় ও লাঙ্গল’র শক্তঘাটি হিসেবে বিবেচিত।
২৯, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন প্রতিষ্ঠা:
  ১৯৮৪ সালে (স্বাধীনতা পরবর্তীতে জাতীয় পার্টি শাসনামলে) ২৯, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) নির্বাচনী আসনটি (এলাকাটি) প্রতিষ্ঠিত হয়। নদ-নদী বেষ্টিত (ব্রহ্মপুত্র-তিস্তা ও ঘাঘট) বৃহৎ আয়তাকার ও জনসমষ্টি বিশিষ্ট প্রশাসনিক এ উপজেলা ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। বর্তমানে সংযুক্ত হয়েছে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা, কঞ্চিবাড়ি ও বামনডাঙ্গা (২টি) পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। এ উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৩৬৯ দশমিক ৮৫ বর্গ কিলোমিটার (১৪২ দশমিক ৮০ বর্গ মাইল)।
সুন্দরগঞ্জ আসন প্রতিষ্ঠা পূর্বে রংপুর-১৭
 ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত ১ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ নির্বাচনী আসন (এলাকা) ১৭, রংপুর- ১৭ আসনে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৫টি ইউনিয়ন বিশিষ্ট এ আসনে ১ লাখ ৩৮২ জন ভোটারের ৪১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। এ নির্বাচনে ৩২ হাজার ৬৬৭ ভোট পেয়ে বাংলাদেশ আ’লীগের (নৌকা) শামসুল হোসেন সরকার নির্বাচিত হন। ন্যাপ মনোনীত গাউসুল আলম, জাসদের রেজাউল ইসলাম, মুসলিম লীগ ও ইসলামি ডেমোক্রেটিক লীগ (এমএল-আইডিএল জোট) প্রার্থী রেজাউল ইসলাম খন্দকারসহ ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। তখন বিএনপি ও জাতীয় পার্টি নামে কোন রাজনৈতিক সংগঠন প্রতীষ্ঠা হয়নি।
সুন্দরগঞ্জ আসন প্রতিষ্ঠা পূর্বে রংপুর-১৮:
  ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ২য় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ নির্বাচনী এলাকাটি জাতীয় সংসদের ২৯, রংপুর-১৮ আসনে অন্তর্ভুক্ত থাকায় ১ লাখ ৬ হাজার ৭৪৯ জন ভোটারের ৭৪টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। এতে ১৮ হাজার ৯ ভোট পেয়ে এমএল-আইডিএল জোটের রেজাউল ইসলাম খন্দকার (হ্যারিকেন) নির্বাচিত হন। বিএনপি গঠিত হবার পর প্রথম বারের মতো এ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়নে সিরাজ উদ্দিন মন্ডল প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। তিনি পেয়েছেন ৯ হাজার ৪৬৪ ভোট। অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী আ’লীগ (মালেক) হাফিজুর রহমান প্রামানিক ৯ হাজার ৪৩০ ভোট, আ’লীগ (মিজান) সাবেক এমপি শামসুল হোসেন সরকার ২৬৯ ভোট পান। নির্বাচনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও অন্যদের প্রাপ্ত ভোট ছিল শূণ্যের কোঠায়।
২৯, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন প্রতিষ্ঠার পর:
 ১৯৮৬ সালের ৭মে অনুষ্ঠিত ৩য় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯, গাইবান্ধা-১, (সুন্দরগঞ্জ) সংসদীয় আসনে ১ম বারের মত নির্বাচন হয়। ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮৭২জন ভোটারের ৯২টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ করা হয়। এতে লাঙ্গল প্রতীকে জাপা প্রার্থী হাফিজুর রহমান প্রামানিক ৬৯ হাজার ৩৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ আবুল হোসেন খাজা পেয়েছেন ২৯ হাজার ৩৪৭ ভোট। আ’লীগের (নৌকা) মোসলেম আলী মিয়া ১৯ হাজার ৩৮২ ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ (দাঁড়িপাল্লা) মনোনীত প্রার্থী মমতাজ উদ্দিন ১৪ হাজার ৭৭৮ ভোট পেয়ে যথাক্রমে ৩য় ও ৪র্থ স্থান অধিকার করেন।
 ১৯৯১ সালের ১২ জুন ৪র্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২য় বারের মত এ আসনের নির্বাচনে ৯৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকে সাবেক এমপি হাফিজুর রহমান প্রামানিক ২৮ হাজার ৭৭৬ ভোট পেয়ে আবারও নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের (দাঁড়িপাল্লা) মাও: আঃ আজিজ ২২ হাজার ৭৩২ ভোট পেয়ে ২য় স্থান লাভ করেন। আ’লীগের (নৌকা) গোলাম মোস্তফা আহমেদ ১৯ হাজার ৬৬০ ভোট পেয়ে ৩য়, জনতা পার্টির আবুল হোসেন ১০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে ৪র্থ, বিএনপি’র (ধানের শীষ) জাহাঙ্গীর আলম ৪ হাজার ৬১৬ ও ইসলামী ঐক্যজোটের আবুল হোসেন ২ হাজার ৭১৪ ভোট পেয়ে পর্যায়ক্রমে স্থান অধিকার করেন। এ নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা ছিল ১৩ জন। মোট ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৫২ জন ভোটারের জন্য ১৫টি ইউনিয়নের ৯৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
 ১৯৯৬ সালের ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল এ আসনের ৩য় বারের মতো নির্বাচন। এ সময় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী দেশের তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নির্বাচন বর্জন করে। ফলে এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল।
 ১৯৯৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল এ সংসদীয় আসনের ৪র্থ বারের মতো নির্বাচন। এ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত প্রার্থী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান সরকার ৫৭ হাজার ৩১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ১ লাখ ৯২ হাজার ১৩৫ ভোটারের জন্য ৯৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। এতে ১১জন প্রার্থীর মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মাও: আব্দুল আজিজ ৩৮ হাজার ১৪৫, নৌকা প্রতীকে আ’লীগের মোসলেম আলী মিয়া ২৮ হাজার ৩৭৪ ভোট পেয়ে ২য় ও ৩য় স্থান লাভ করেন। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি মনোনীত জাকারিয়া হোসেন খন্দকার পেয়েছেন ২ হাজার ৯১৪ ভোট। এ নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের মমতাজ উদ্দিনসহ ৮জন প্রার্থীই জামানত হারান।
 ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচন ছিল এ আসনের ৫ম বারের মতো নির্বাচন। এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় ঐক্যজোট গঠনের পর নির্বাচনকালে ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ১৩১জন। ১৫টি ইউনিয়নে আরো ৭টি কেন্দ্র বৃদ্ধি করে ১০২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। নির্বাচনে ৪ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) মাও: আ: আজিজ ৭৫ হাজার ৪৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত ওয়াহিদুজ্জামান সরকার ৫৭ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে ২য়, আ’লীগের (নৌকা) সৈয়দ আবুল হোসেন খাজা ৪৬ হাজার ৮৯ ভোট পেয়ে ৩য় স্থান অধিকার করেন। নির্বাচনে সাবেক এমপি হাফিজুর রহমান বাইসাইকেল প্রতীকে জেপি (মঞ্জু) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ৩ হাজার ৩২৩, জাসদের আহসান হাবিব মাসুদ ৭৯৯ ভোট পেয়ে জামানত হারান।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটিতে ৬ষ্ঠ বারের মত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জোট-মহাজোটের ২ জনসহ ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে জাপার মহাজোট মনোনীত কর্ণেল (অব:) ডাক্তার আব্দুল কাদের খান ১ লাখ ৬০ হাজার ৮ ভোট পেয়ে স্মরণকালের মত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৪ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী সাবেক এমপি মাও: আ: আজিজকে পরাজিত করেন। তিনি পান ৬০ হাজার ৯৩ ভোট। নির্বাচনে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নের ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ জন ভোটারের ১০২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাসদের বীরেন চন্দ্র শীল (মই) ১ হাজার ৩৭৭ ও কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের বীর-উত্তম  আ: মজিদ ৩৬৯ ভোট পেয়ে জামানত হারান।
 ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ৭ম বারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নে ১০৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের দিনক্ষণ পর্যন্ত ভোটারের স্থির সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২ হাজার ৮৫৩ জন। এতে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। নির্বাচনের আগে থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রসহ পাশাপাশি অবস্থানে সংঘর্ষ চলতে থাকে। ফলে প্রায় অর্ধেক সংখ্যক কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করে পরবর্তী ১৪ জানুয়ারী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীতে স্থগিতকৃত কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন অনু্ষ্ঠিত হয়। ২ দফায় নির্বাচন সম্পন্ন হবার আগেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় আসনের চেয়েও অনেক বেশি সংখ্যক আসনে বিজয়ী হয়। এ নির্বাচনে জোটবদ্ধ বা দলীয়ভাবে বিএনপি, জামায়াত অংশ গ্রহণ করেনি। ক্ষমতাসীন আ’লীগের (নৌকা) প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৫২ ভোট দেখিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লাঙ্গল প্রতীকে জাপা প্রার্থী সাবেক এমপি কর্ণেল (অব:) আব্দুল কাদের খানের ১৩ হাজার ৪৪ ভোট দেখানো হলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। বাই-সাইকেল প্রতীকে জেপি’র রেজিয়া বেগম ১ হাজার ২০৩ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল রানা ৬৫১ ভোট পেয়ে জামানত হারান। এ নির্বাচনকালে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩ হাজার ৩৪ জন। এরমধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫৪ জনের। নির্বাচনে ১০৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনকালে সহিংসতার কারণে ১০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে পরবর্তীতে ১৪ জানুয়ারি স্থগিতকৃত কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় ভোট গ্রহণের  পর ১৬ জানুয়ারি চূড়ান্ত ফলাফলে আ’লীগের (নৌকা) প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রশাসন।
 ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯ম বারের মতো এ নির্বাচনী আসনে পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নের ১১১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।নির্বাচনকালে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৪৯ জন। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১১ জনের মধ্যে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রার্থী সাবেক এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৮৫ ভোট পেয়ে ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সহকারি অধ্যাপক মাজেদুর রহমান ৬৫ হাজার ১৭৩ ভোট পেয়ে বিপুল সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এ নির্বাচনে দলীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ অংশ গ্রহণ করেনি। বিএনপি’র সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকায় দাঁড়িপাল্লার বদলে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম খন্দকার ১ হাজার ৪০২ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি কর্ণেল (অব:) ডাক্তার আব্দুল কাদের খান ১ হাজার ৫২৯ ভোট পান। এতে নির্বাচিত ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া অন্য সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই জামানত হারান।
 ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল এ আসনে ১০ম নির্বাচন। এতে আ’ লীগের প্রার্থী সরিয়ে জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়। নির্বাচনে এমপি লিটনের বড় বোন আফরুজা বারীর মেয়ে স্বতন্ত্র (ঢেঁকি) প্রার্থী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ্ নাহিদ নিগার (সাগর) ৬৬ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির (জাপার) সাবেক এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ৪৩ হাজার ৪৯১ ভোট পেয়ে ২২ হাজার ৫৫৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এ নির্বাচনে পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নের ১১৪টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এ নির্বাচনী আসনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৬ জন।
 এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫২, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩ জন ও হিজড়া ভোটার ১ জন। ১১৪টি কেন্দ্রের ৮৪৭টি কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
 লাঙ্গল’র প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামানের পরাজয়:
 ২০০১ সালের নির্বাচন পূর্বে ১৯৯৬ সালের সংসদ মেয়াদে জাপার কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে ওয়াহিদুজ্জামান সরকার জাপার সিনিয়র যুগ্ন-মহাসচিব নির্বাচিত হন। একই সময়ে উপজেলা জাপায় শুরু হয় দ্বিধা-বিভক্তি। এতে ৪ ভাগে বিভক্ত হয়ে উপজেলা জাপায় চৌ-চির অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। সাবেক এমপি হাফিজুর রহমান প্রামানিক জাপায় (এরশাদ) ফিরে আসার চেষ্টায় ব্যর্থ হন। ফলে, জাপার মনোনয়নপ্রাপ্তির সুযোগ খুঁজতে থাকেন ইঞ্জিনিয়ার হাসান ঈমাম, শিল্পপতি মহসিন আলী প্রামাণিক ও কর্ণেল (অব:) ডাক্তার আব্দুল কাদের খান। রাজনৈতিক অপরিপক্কতার কারণে সাবেক এমপি ওয়াহিদুজ্জামান সরকার উপজেলা জাপাকে আর একীভূত করতে পারেননি। অপরদিকে, ৪ দলীয় ঐক্যজোটের জোটবদ্ধ নির্বাচনের ফলে, ২০০১ সালের (৮ম) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জাপার ছন্দপতন দেখা দেয়।
২০১৪ সালের নির্বাচনে সংসদ মেয়াদে মৃত্যুজনীত সংসদ সদস্য পদ শূণ্য’ হলে ২ বার উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সালের ২২ মার্চ (১ম) ও ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ (২য়) উপ-নির্বাচনে আ’লীগের (নৌকা) ও জাপা’র (লাঙ্গল) প্রার্থী ১ বার করে নির্বাচিত হন।
  ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর তৎকালীণ সরকার দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের মৃত্যুতে ২০১৭ সালের ২২ মার্চ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আ’লীগের (নৌকা) প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আহমেদ ৯০ হাজার ১৬৯ ভোটে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ৬০ হাজার ১১ ভোট পেয়ে হেরে যান। এ সময় ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮১ জন। নির্বাচনে জাসদ (ইনু), গণফ্রন্টসহ আরো কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ গ্রহণ করেন।
 এরপর, একই সালের ১৯ ডিসেম্বর এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদ মারা যাবার পর ২০১৮ সালের ১৩ই মার্চ এ আসনে পুনরায় উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ৭৮ হাজার ৯২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম আ’লীগের (নৌকা) প্রার্থী উপজেলা আ’লীগের তৎকালীণ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও নিহত এমপি লিটনের বড় বোন আফরুজা বারী ১০ হাজার ১৩ ভোটের ব্যবধানে ৬৮ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। এ উপ-নির্বাচনকালে ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ, ৩৩ হাজার ৫৩৯ জন। ভোট গ্রহণ করা হয় ১০৯টি কেন্দ্রে।
লাঙ্গল প্রতীকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ:
 এদিকে, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে লাঙ্গল প্রতীকে জাপা মনোনীত প্রার্থীর পরাজয় মেনে নিতে পারেননি জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ইঞ্জি: মোস্তফা মহসিন সরদার। কারণ, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সার্ক’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, জাপা তথা লাঙ্গলের অত্যন্ত শক্তঘাটি হিসেবে খ্যাত এ সংসদীয় আসন বিশিষ্ট ‘সুন্দরগঞ্জ উপজেলা’। তাই, তিনি একই সালে ২৯ মে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে বিপুল সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। এতে পরাজিত হন সাবেক এমপি, উপজেলা পরিষদের একাধিকবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও জাপার সাবেক সিনিয়র যুগ্ন-মহাসচিব ওয়াহিদুজ্জামান সরকার, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম সরকারসহ অন্যান্য প্রার্থীগণ। তিনি (ইঞ্জিঃ মোস্তফা মহসিন সরদার) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশীল ঘোষণার আগে থেকে জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনয়নে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট প্রার্থনায় মাঠ-প্রান্তর, পাড়া-গ্রাম, হাট-বাজারসহ গণসংযোগস্থলে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, নির্বাচনী আলোচনা, দোয়া কামনা ও ভোট প্রার্থনা করেন। শেষ পর্যন্ত সাবেক এমপি ও জাপার মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী নিজেই জাপা মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ফলে, সদ্য অপসারিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জি: মোস্তফা মহসিন সরদার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বলে জানান।
  এরপর, জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রতীষ্ঠা অতঃপর সরকার গঠনের পর ১৯৮৪ সালে গাইবান্ধা মহুকুমাকে জেলায় উন্নীত করে ৭টি প্রশাসনিক উপজেলা ও জাতীয় সংসদের ৫টি সংসদীয় আসন (নির্বাচনী এলাকা) গঠন করা হয়। এরমধ্যে ২৯, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ম থেকে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত প্রার্থীই বার বার (বেশিরভাগ সময়ে) নির্বাচিত হওয়ায় এ আসনটি জাপা’র শক্তঘাটি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *