
কুমিল্লায় গৃহবধূ হত্যা মামলায়
শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন
গোলাম মোস্তফা মজুমদার, কুমিল্লাঃ
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অপর আসামি নিহতের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টায় কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামছুল আলম এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—নিহত মরিয়ম বেগমের শ্বশুর, শাশুড়ি এবং দেবর।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার অন্তর্গত এলাকায় গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
পরবর্তীতে এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরসহ চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত এই রায় প্রদান করেন।মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
বিজ্ঞ আদালত তিন আসামিকে উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।
“এদিকে আদালতের রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে খালাস পাওয়া স্বামী আবদুল মতিনের ব্যাপারে নিহতের পরিবারের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।