
লাকসামে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগে থানায় মামলা
রিয়াদ হোসেন, লাকসামঃ
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের ছোট চাঁদপুর গ্রামে তিন শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মকবুল হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে লাকসাম থানায় মামলাটি রুজু করা হয় (মামলা নম্বর: ১০)।
এজাহার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই সকাল ১০টা থেকে ১০টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ছোট চাঁদপুর গ্রামের একটি বসতঘরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগকারী কাউছার (৩৬) এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, অভিযুক্ত মকবুল হোসেন ভুক্তভোগী শিশুদের যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়েছেন, জোরপূর্বক চুম্বন করেছেন এবং শিশুদের যৌনাঙ্গে হাত দেওয়ার মতো ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুদের মধ্যে রয়েছে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মমতাজ আক্তার (১১), প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল আক্তার মাওয়া (৭) এবং একই শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার (৬)।
ঘটনার পর থেকে এলাকার অভিভাবক ও সচেতন মহলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মকবুলের এ ধরনের আচরণ নতুন নয়। ভয়ে অনেকে এতদিন মুখ খোলেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, “মকবুল নিজের মেয়ের প্রতি কুনজর দেওয়ায় তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। যার কাছে নিজের সন্তান নিরাপদ নয়, তার কাছ থেকে অন্যের মেয়েরা কতটা নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
” জানা গেছে, অভিযুক্তের স্ত্রীর করা একটি মামলাও বর্তমানে চলমান রয়েছে।
অভিযুক্ত মকবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রাপ্ত অজ্ঞাত স্থান থেকে করা এক ভিডিও বার্তায় অভিযুক্ত মকবুল দাবি করেন এটি মিথ্যা মামলা এবং তালাক দেয়াতে তার স্ত্রী স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তা এসব ষড়যন্ত্র করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আসামি ধরার জন্য অভিযান অব্যহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।