বিক্ষোভের মুখে সংসদ ভবন ছাড়লেন মোদি

আইন আদালত আন্তর্জাতিক জাতীয় রাজনীতি সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

বিক্ষোভের মুখে সংসদ

ভবন ছাড়লেন মোদি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট)–সংক্রান্ত প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে আয়োজিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা এ কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালে হাজারো আন্দোলনকারী নিরাপত্তা ব্যারিকেড অতিক্রম করে সংসদ ভবনের মূল ফটকের দিকে অগ্রসর হন। এ সময় ভবনের ভেতরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সংসদ এলাকা ত্যাগ করে বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সকাল থেকেই সংসদ ভবন ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় দিল্লি পুলিশ। লোহার ব্যারিকেড দিয়ে বিভিন্ন প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীদের একটি অংশ সেগুলো অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও আন্দোলনকারী আহত হন।

পরবর্তীতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে মধ্য দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। কনট প্লেস, শাস্ত্রী ভবন, রেল ভবন, কনস্টিটিউশন ক্লাব এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) আশপাশে উত্তেজনা দেখা দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী একাধিকবার কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। রেল ভবনের সামনে দীর্ঘ সময় সংঘর্ষ চলার পর অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

নিরাপত্তাজনিত কারণে সংসদ ভবনের দক্ষিণ দিকের প্রধান প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর প্রভাব পড়ে রাজধানীর যান চলাচলেও। সেন্ট্রাল দিল্লির বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজীব চক, জনপথ, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও সেবাতীর্থ মেট্রো স্টেশনের কয়েকটি প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

মাণ্ডি হাউসসহ বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলনকারীদের সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর-মন্তর, সংসদ ভবন এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সিজেপির কর্মসূচির জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছিল না। এছাড়া সংসদ এলাকার চারপাশে জারি থাকা নিষেধাজ্ঞার কারণে সেখানে জমায়েত আইনবিরোধী।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি, কর্মসূচির বিষয়ে তারা আগেই প্রশাসনকে অবহিত করেছিলেন। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমাতে পুলিশ অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করেছে। পাশাপাশি যন্তর-মন্তর ও আশপাশের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এদিকে সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব দাবি করেছে, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মোদি সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।


শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *