
বুড়িচংয়ে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় জামিনে বেরিয়ে বাদীকে
প্রাণনাশের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার
সৌরভ মাহমুদ হারুন, বুড়িচংঃ
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাড়াইর মধ্যপাড়া গ্রামে দায়ের হওয়া আলোচিত ধর্ষণচেষ্টার মামলার আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে বাদী ও ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন মামলার বাদী।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাড়াইর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুমাইয়া আক্তার তিন্নি (১৮) বাবার বাড়িতে নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
এ সময় একই গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির (৪২) ঘরে প্রবেশ করে তাকে অশালীন প্রস্তাব দেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে তিনি জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্তকে আটক করেন।
স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলমগীর ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেন। পরে ভুক্তভোগীর মা রহিমা বেগম বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরদিনই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
বাদী রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় ১৭ দিন কারাভোগের পর আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে হুমায়ুন কবির ও তার লোকজন তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। ফলে তিনি ও তার মেয়ে নিজ বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারছেন না। আতঙ্কে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।
ভুক্তভোগীর মামা বলেন, “আমরা আদালতের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই। পাশাপাশি বাদী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলমগীর বলেন, “ভুক্তভোগীর জবানবন্দি ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, বাদী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।