লাকসামে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্ত:ধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত

কুমিল্লা চট্টগ্রাম জাতীয় রাজনীতি সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

লাকসামে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্ত:ধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত

লাকসাম প্রতিনিধিঃ

‘সংঘাত নয়,শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠায় লাকসামে আন্ত:ধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার ২২ জুন সকালে লাকসাম উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের আয়োজেনে পিস এম্ব্যাসেডর মীর মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্ত:ধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার নার্গিস সুলতানা।

পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ পিএফজি
লাকসাম ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর জাফর আহমেদ এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন, পিএফজি এম্ব্যাসেডর ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল হোসেন মিলন, পিএফজি এম্ব্যাসেডর মোঃ সিরাজুল হক, পিএফজি এম্ব্যাসেডর নাজনীন আক্তার নিপা, ফুলগাঁও ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ ইয়াছিন মজুমদার, পলাশ বৈষ্ণব, বরইগাও বৌদ্ধ বিহারের প্রজ্ঞাশ্রী থের, করুনাদর্শী ভিক্ষু, পিএফজি সদস্য ডাক্তার আব্দুল মমিন মজুমদার, নাজমুন্নাহার নুপুর, ডাক্তার কল্যাণ দত্ত, লাকসাম উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, লাকসাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুজিবুর রহমান দুলাল, লাকসাম উপজেলা জাকের পার্টির সভাপতি নূরে আলম মানিক প্রমুখ।

মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মো: রাসেল আহমেদ, এরিয়া সমন্বয়কারী মিপস প্রজেক্ট, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সৈয়দ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, অনুষ্ঠানের ঘোষণা পত্র পাঠ করেন পিএফজি এম্ব্যাসেডর নাজনীন আক্তার নিপা, ফিল্ড কোঅডিনের খোদেজা বেগম।

বক্তারা বলেন,“হাজার হাজার বছর ধরে আমরা সকল ধর্মের লোক একসাথে বসবাস করি।

 

এক ধর্মের লোক অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে যাই। আমরা চেষ্টা করি আমাদের অন্য ধর্মের লোকের প্রতি অন্যায় যেন না হয়। আমাদের যদি ৫ জন বন্ধু থাকে সেখানে অন্তত একজন অন্য ধর্মের লোক থাকে। আর এটাই বাংলাদেশের ঐতিহ্য। ধর্মীয় সম্প্রীতিটা আমাদের ঐতিহ্য। এভাবে আমরা আমাদের ঐতিহ্য বজায় রাখি।

 

তারা আরো বলেন, আমাদের সম্প্রীতিকে অনেকে নষ্ট করতে চায়। হয়তো আমরা সচেতন বলে বড় ধরনের সংঘাত এড়িয়ে যেতে পারি। কিন্তু অনেকে স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করতে চায়। বিশেষ করে বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। সবার ঘরে ঘরে এটা ব্যবহার হয়ে থাকে। সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে যে কোন বড় ঘটনা ঘটানো এখন সম্ভব।

 

বিশেষ করে গুজব ছড়িয়ে সংঘাত তৈরি করা হয়। ছোটখাটো গুজব থেকে তা বড় ধরনের সংঘাতে রুপ নেয়। এক্ষেত্রে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু আসলে তা আগে ফ্যাক্ট চেক করতে হবে।

 

বক্তারা আরো বলেন, প্রতিটি ধর্মই শান্তি চায়। সব ধর্মে শান্তির কথা বলা আছে। কোন ধর্ম সংঘাত চায় না। পাশ্ববর্তী দেশে কি হচ্ছে তা আমাদের ভাবলে হবে না। আমাদের বিষয় আমাদেরকে ভাবতে হবে। আমরা আমাদের প্রতিবেশী নিয়ে ভাববো।

 

এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতা,রাজনীতিবিদ,সুশীল সমাজের লোকদের এগিয়ে আসতে হবে।

বক্তারা বলেন, আমরা অন্তত লাকসাম আমাদের নিজ এলাকা। এই উপজেলার সম্প্রীতির বিষয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

 

লাকসামের শত শত বছরের যে ধর্মীয় সম্প্রীতি সেটা যেন বিনষ্ট না হয় সেটা আমাদের দেখতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।


শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *