অপহৃত কন্যার সন্ধানে মায়ের আর্তনাদ: “আমার মেয়ে বেঁচে আছে কি না জানি না”

আইন আদালত কুমিল্লা চট্টগ্রাম জাতীয় সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

অপহৃত কন্যার সন্ধানে মায়ের আর্তনাদ: “আমার মেয়ে বেঁচে আছে কি না জানি না”

লাকসাম প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসামের এক অসহায় মায়ের হৃদয়বিদারক আকুতি—“আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দিন, সে বেঁচে আছে কি না তাও জানি না।” দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা কিশোরী কন্যার সন্ধান ও ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং দেশের দায়িত্বশীল মহলের প্রতি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন ওই মা।
লাকসাম উপজেলার গাজীমুড়া এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ ফারহানা মাহমুদা ঝর্ণা সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে শাহিনুর আক্তার শিফাকে ডেন্টিস্ট শাহজাহান মজুমদারের ছেলে শামীমসহ একাধিক ব্যক্তি অপহরণ করে দীর্ঘ সময় গুম করে রাখে।
এ সময় জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের কারণে তার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
এছাড়াও তার মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি স্কুলে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে প্রথমবার অপহরণ করা হয়। প্রায় ৪৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর মেয়েটিকে পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে গত ২০ এপ্রিল লাকসামের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে দ্বিতীয়বার তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর থেকে মেয়েটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
ফারহানা মাহমুদা ঝর্ণার দাবি, ঘটনার পর তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি।
পরবর্তীতে গত ১১ মে কুমিল্লার আদালতে মামলা দায়ের করেন। তবে এখনও পর্যন্ত তার মেয়ে উদ্ধার না হওয়ায় তিনি চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি একজন সাধারণ ও অসহায় মা। আমার মেয়েকে ফিরে পাওয়ার জন্য সব জায়গায় ঘুরছি। কিন্তু কোথাও সঠিক সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমার মেয়ে বেঁচে আছে কি না তাও জানি না। আমি শুধু আমার সন্তানের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত তার মেয়েকে উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, অভিযুক্ত ডেন্টিস্ট শাহজাহান মজুমদারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, এ বিষয়ে একটি জিডি আছে। আমরা ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি।
সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত কিশোরীর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তার পরিবার জানিয়েছে।

শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *