গৌরীপুরে উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ধ্বংস-সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি সেতুরকাজ

অর্থনীতি আইন আদালত জাতীয় ময়মনসিংহ রাজনীতি সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

গৌরীপুরে উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ধ্বংস-সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি সেতুরকাজ

মো: হুমায়ুন কবির, গৌরীপুরঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর-বলুহা সড়কের একটি নির্মাণাধীন সেতু এখন স্থানীয়দের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। এর মধ্যেই উদ্বোধনের আগেই সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে দেখা দিয়েছে ভাঙন ও ধস।
এতে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে বর্ষায় পুরো সড়ক যোগাযোগই বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০২২–২৩ অর্থবছরে বলুহা সড়কের খালের ওপর ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ৯৭ লাখ ৩৮ হাজার ৫৩০ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পায় মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়ার পর ২০ জুন কাজ শুরু হয়। একই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও একাধিকবার সময় বাড়ানোর পরও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বুধবার ২০ মে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ড্রাম শেডের গাইডওয়াল সরে যাওয়ায় রাস্তার দুই পাশের মাটি ধসে পড়েছে। ভেঙে গেছে ইটের সলিংও। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়কের নিরাপত্তা বেষ্টনী।
স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
শুধু নির্মাণে ধীরগতি নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কাজ শুরুর আগেই প্রকল্পের ব্যয়, সময়সীমা ও বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এছাড়া কাজ শুরুর আগে সাইট অফিস, শ্রমিকদের জন্য শেড, ইটের খোয়া ভেজানোর পানির চৌবাচ্চা এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব শর্তও উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বলুহা গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল হক বলেন, “শুরু থেকেই কাজের অনিয়ম নিয়ে আমরা কথা বলেছি। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।”
শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জনা রানী বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বহু স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী চলাচল করে। বর্ষায় রাস্তা বিচ্ছিন্ন হলে তাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “বর্ষার কারণে কাজের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। কিছু মাটি সরে গেছে, বিষয়টি পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় মাটি না পাওয়ায় কাজে বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলাল উদ্দীন বলেন, “সেতুর কাজ পরিদর্শন করা হয়েছে। ঠিকাদার এখনো চূড়ান্ত বিল পাননি। কাজ সন্তোষজনকভাবে শেষ না হলে বিল দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে কার্যাদেশ বাতিল করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের কারণে জনদুর্ভোগ বাড়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *