
জৈষ্ঠ্যের মধুফল লিচু বৈশাখেই বাজারে, দাম চড়া-ক্রেতার আগ্রহ কম
সৌরভ মাহমুদ হারুন, বুড়িচংঃ
জৈষ্ঠ্য মাসের রসালো ও সুস্বাদু মধুফল লিচু বৈশাখ মাসেই কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে উঠতে শুরু করেছে।
আগাম মৌসুমে বাজারে লিচুর উপস্থিতি ক্রেতাদের নজর কাড়লেও অপরিপক্ব ফল ও চড়া দামের কারণে বিক্রি জমে ওঠেনি। ফলে বাজারে লিচু নিয়ে কৌতূহল থাকলেও ক্রেতাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে সংযত আগ্রহ।
গত কয়েকদিন ধরে কুমিল্লা মহানগরীর কান্দিরপাড়, রাজাগঞ্জ, চকবাজার, টমছম ব্রিজ, শাসনগাছা, ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট, কংশনগর বাজার, নিমসার বাজার ও বুড়িচং বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সীমিত আকারে লিচু বিক্রি শুরু হয়েছে।
মৌসুমের শুরুতেই বাজারে লাল-সবুজ রঙের থোকায় থোকায় সাজানো লিচু পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও দাম শুনে অনেকেই কিনতে দ্বিধায় পড়ছেন।
নিমসার বাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন মেম্বার জানান, দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত নিমসারে এখন পাইকারির পাশাপাশি খুচরা বিক্রিও চলছে। বর্তমানে প্রতি শত লিচু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে আসা বেশিরভাগ লিচুই এখনো পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি।
তিনি বলেন, “আরও দুই সপ্তাহ পর লিচু পুরোপুরি পেকে যাবে। তখন এর আকার বড় হবে, রস ও মিষ্টতা বাড়বে, বাজারেও চাহিদা বাড়বে।”
বুড়িচং বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বলেন, “পাইকারি দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারেও প্রতি শত লিচু ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এখন বিক্রি খুব একটা ভালো নয়। তবে কয়েকদিনের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে এবং বিক্রিও বাড়বে।”
ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট এলাকার কফি হাউজ সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে লিচু বিক্রি করা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা গ্রামের করিম বক্স বলেন, “সকাল থেকে বসে আছি, কিন্তু বিক্রি আশানুরূপ নয়। দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই কিনতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।”
অন্যদিকে, আগাম লিচু খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যসচেতনরা। নিমসার বাজারের পল্লী চিকিৎসক টিপু সুলতান বলেন, “অপরিপক্ব লিচুতে রাসায়নিক ব্যবহারের আশঙ্কা থাকে।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।”
সব মিলিয়ে, বৈশাখেই জৈষ্ঠ্যের মধুফল লিচুর আগমনে বাজারে মৌসুমি ফলের আমেজ তৈরি হলেও স্বাদ, পরিপক্বতা ও সহনীয় দামের জন্য ক্রেতাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।