
কুমিল্লার নিমসার বাজারে গণবিজ্ঞপ্তি ও উচ্ছেদের মাইকিং
সৌরভ মাহমুদ হারুন, বুড়িচংঃ
কুমিল্লা তথা দেশের অন্যতম বৃহৎ কাঁচামালের পাইকারী বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে সড়ক ও জনপদ বিভাগের গণবিজ্ঞপ্তি ও উচ্ছেদেও মাইকিংয়ের পরও ১ এপ্রিল বুধবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি।
উচ্ছেদ আতঙ্কে মঙ্গলবার রাতে কিছু দোকান সরিয়ে নিলেও বেশীর ভাগ দোকান মালিকরা বুধবার অজানা আতঙ্কের মাঝে দিনভর ব্যবসা করেছে।
সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার এলাকায় দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারী বাজারটির অবস্থান।
বুড়িচং উপজেলা প্রশাসন ও নিজস্ব মালিকানাধীন জায়গার বাইরে মহাসড়কের দু’পাশে সড়ক ও জনপদ বিভাগের বিশাল জায়গাজুড়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা কয়েক শত ভাসমান দোকান ঘর নির্মান করে ভাড়া দেয়।
প্রতিদিন সারাদেশ থেকে অসংখ্য ব্যবসায়ী বিভিন্ন শ্রেনীর তরিতরকারী, ফলমূলসহ নানা পণ্য শত শত ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে এই বাজারে নিয়ে আসে।
এসময় অনেক গাড়ি চালক সময় বাচাতে উল্টো পথে আড়ৎগুলোর সামনে অবস্থান নেয়।
এ ছাড়াও সড়কের উপর বা পাশে গাড়ি রেখে অন্য গাড়িতে মালামাল লোড-আনলোড করে। এতে জাতীয় প্রধান এই মহাসড়কের নিমসার বাজার এলাকায় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ সমস্ত সামগ্রীক অবস্থা বিবেচনায় তথা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে গত ১৫ মার্চ ২০২৬ ইং কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বলা হয়।
মার্চ ২০২৬ ইং সালের শেষ সপ্তাহের যে কোন দিন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এরই প্রেক্ষিতে ৩০ মার্চ নিমসার বাজার এলাকায় মাইকিং করে উচ্ছেদের প্রচারনা চালায়। তার প্রেক্ষিতে বাজারের ভাড়াটে ব্যবসায় দের মাঝে অজানা আতঙ্ক দেখা দেয়।
গত মঙ্গরবার রাতে উচ্ছেদ আতঙ্কে বেশ কিছু দোকানী তাদের দোকান ঘর সরিয়ে নিলেও বেশীর ভাগ দোকানী সরে যায়নি।
এ অবস্থায় ১ এপ্রিল বুধবার সকালে বেশ কিছু সংবাদ কর্মী উচ্ছেদে অভিযানের সংবাদ সংগ্রহের জন্য এসে দুপুর ১ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে। কিন্তু সড়ক ও জনপদ বিভাগের কোন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি।
বিষয়টি জানতে চাইলে জনবল সংকটের কথা বলে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, অচিরেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারী মাসেও একবার উচ্ছেদ অভিযানের কথা বলে কোন উচ্ছেদ করতে আসেনি সওজ কর্তৃপক্ষ।