লাকসামে বেপরোয়া ডাকাত ও মাদকচক্র-আতঙ্কে গ্রামবাসী

Uncategorized
শেয়ার করুন....,

লাকসামে বেপরোয়া ডাকাত ও মাদকচক্র- আতঙ্কে গ্রামবাসী

 

​লাকসাম প্রতিনিধি :

​কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের সালেপুর গ্রাম ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ইদানীং আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরি, ছিনতাই এবং মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বিশেষ করে গত ১৭ মার্চ রাতে এক হাফেজ ছাত্রের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি এবং এক প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

​গত ১৭ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে সালেপুর গ্রামের শহীদা বেগমের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শহীদা বেগম জানান, তার ছেলে সালেপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মসজিদে খতম তারাবি পড়ান। তারাবি শেষে ঈদগাহ কমিটি তাকে হাদিয়া ও সম্মাননা প্রদান করেন। সেই টাকা নিয়ে তার ছেলে ঘরে ফেরার পর রাতে সংঘবদ্ধ চোরচক্র ঘরের পাশে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে।

​চোরেরা ঘরে ঢুকে আলমারি ও শোকেসের তালা ভেঙে ফেলে এবং তার ছেলের মোবাইল ও মানিব্যাগসহ নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। শহীদা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, “গত বছরও আমাদের ঘরে চুরি হয়েছে, এ বছর আবার হলো। আমরা এখন কার কাছে নিরাপত্তা চাইব ? প্রশাসনের কাছে আমাদের জীবনের ও মালের নিরাপত্তা দাবি করছি।”

​অন্যদিকে, একই এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম। ইব্রাহিম একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও সালেপুর পূর্ব পাড়ায় দর্জি ও বিকাশের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন একজন রিকশাচালক।

​ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গত রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে রেললাইনের উত্তর পাশে ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা ইব্রাহিমকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দেয়।

 

এসময় তার কাঁধে থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যাতে দোকানের লেনদেনের প্রায় ৩৬ হাজার টাকা ও প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোন ছিল।

একজন অসহায় প্রতিবন্ধীর শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

​এলাকাবাসীর অভিযোগ, সালেপুর ও এর আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং সেবনের আড্ডা এখন ওপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রেললাইন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিয়মিত গাঁজা ও অন্যান্য মাদক সেবন চলে। গন্ধে আশপাশের বাড়িতে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, অপরাধীদের অনেকেই সমাজের চেনা মুখ হওয়া সত্ত্বেও প্রভাবশালী মহলের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে দিন দিন সমাজ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

​সালেপুরের সাধারণ মানুষ ও সচেতন সমাজ মনে করেন, একটি সুন্দর সমাজকে ধ্বংস করার জন্য যারা এই হীন পায়তারা চালাচ্ছে, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা জরুরি। একের পর এক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং টহল বৃদ্ধির জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *