
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের : মিলন
শিবলী সাদিক, রাজশাহীঃ
রাজশাহী১১ জানুয়ারি ২০২৬।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে সদ্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকারী তারেক রহমান সবাইকে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও পবা-মোহনপুর আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
রোববার দুপুরে পবা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির আয়োজনে বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিলন বলেন, দীর্ঘ সতের বছর লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরে এসেছেন। দেশে ফিরে তিনি প্রথমেই সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন—প্রতিহিংসা নয়, বরং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে সবাইকে এক কাতারে এনে আন্দোলন ও রাজনীতি করতে হয়। শত নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও তাঁকে দেশছাড়া করা যায়নি। তিনি বলতেন, এই দেশ ছাড়া তাঁর আর কোথাও কিছু নেই।
একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে এসে তিনি বিএনপির হাল ধরেন এবং পরে দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হন।
মিলন বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই স্বৈরশাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন। তখন অনেক রাজনৈতিক শক্তি এরশাদের সঙ্গে আপস করলেও বেগম জিয়া জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আপসহীন আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন। এজন্যই জনগণ তাঁকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি ছিলেন ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’। তাঁর মৃত্যুতে দেশ-বিদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।
জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি এবং বিশ্বের বহু দেশের নেতৃবৃন্দের শোকবার্তা তার প্রমাণ।
মিলন অভিযোগ করে বলেন, পতিত সরকারের আমলে শেখ হাসিনার নির্দেশে বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করে রাজনৈতিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
যথাসময়ে চিকিৎসা না দিয়ে তাঁকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য তিনি শেখ হাসিনার বিচার দাবি করেন।
বক্তব্য শেষে বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আরাফাত রহমান কোকোসহ বিএনপির প্রয়াত নেতাকর্মী ও জুলাই-আগস্টে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
একাধিক স্থানে দোয়া মাহফিল
ওইদিন বিকেল পাঁচটায় মোহনপুর উপজেলার ৩নং রায়ঘাটি ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন এডভোকেট শফিকুল হক মিলন। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তফা ফারাইজির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল হক মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ, সাবেক মেয়র আলাউদ্দিন আলো, সাবেক মেয়র মকবুল হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ।
সন্ধ্যা ছয়টায় মোহনপুরের শ্যামপুর হাট মাঠে ২নং ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে আরেকটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মালেকের সভাপতিত্বে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
পবা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির দোয়া মাহফিলে সমিতির সভাপতি আনারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাব-রেজিস্ট্রার শাহিন আলী, বিএনপি নেতা শেখ মকবুল হোসেন, নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, কাউন্সিলর আবু সুফিয়ানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।