
বুড়িচংয়ে সড়ক সংস্কারকাজে বাঁশের খুঁটি ও নিম্নমানের জিও ব্যাগ ব্যবহারের অভিযোগ
সৌরভ মাহমুদ হারুন, বুড়িচংঃ
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়ন এর বারেশ্বর গ্রামে বারেশ্বর–পাচওরা-শংকুচাইল সড়কের কামাল মেম্বারের বাড়ির পুকুরপাড় অংশে রাস্তা সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার সংস্কারকাজে টেকসই উপকরণের পরিবর্তে বাঁশের খুঁটি ও নিম্নমানের জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় এবং কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বারেশ্বর কেজি স্কুলসংলগ্ন সড়কের পুকুরপাড় অংশে চলমান সংস্কারকাজে বাঁশের খুঁটি দিয়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় মান বজায় না রেখে নামমাত্র মেরামতের মাধ্যমে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় অভিজ্ঞমহলের অভিযোগ বারেশ্বর চৌমুহনী থেকে পাচওরা সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শতশত অটোরিকশা সিএনজি মোটর সাইকেল সহ যাত্রী বাহী বিভিন্ন যান বাহন চলাচল করছে।
সড়কটি দিয়ে অফিস আদালত স্কুল কলেজ গামী শিক্ষার্থী শিক্ষক সহ নানাহ যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে চলছে। সংস্কার কাজের স্থানে স্থায়ী টেকসই কোল ওয়াল নির্মান না করে জিও ব্যাগ এবং বাঁশের খুটি দিয়ে এমন সংস্কারের ঝুঁকি থেকে যাবে স্থানীয় লোকজনের ধারনা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, বাঁশের তৈরি এসব খুঁটি দীর্ঘস্থায়ী নয়। যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ না হলে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই এগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবহৃত জিও ব্যাগের মান নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, কাজটির ঠিকাদার হিসেবে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য কামাল হোসেন (কামাল মেম্বার) দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনিয়ম নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই দ্বিধায় আছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, “কামাল মেম্বারের তদারকিতে কাজটি হচ্ছে। কেউ বাধা দিলে বা প্রশ্ন তুললে তাকে নানাভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে গ্রামের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না।”
কামাল মেম্বারের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কাজের প্রকৃত মান, ব্যবহৃত উপকরণ এবং বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শন ও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এবং মাননীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁদের দাবি, বারেশ্বরের চলমান উন্নয়নকাজে নিয়মিত তদারকি বাড়ানো হোক এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তানভীর হোসেন বলেন যেহেতু বর্ষা মৌসুম চলছে আর সড়ক ভেঙ্গে পুকুরে পতিত হচ্ছে যান বাহন চলাচলের জন্য জরুরি ছিল। তাই ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ান পার্সনের টাকা থেকে আপত কালিন যান বাহন ও মানুষ চলাচলের জন্য সংস্কার করা হয়েছে আপদত। বর্ষা শেষে স্থায়ী ভাবে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে।