
টাকার জন্য ৮ হাজার
আম গাছ কেঁটে সাবাড়
মোঃ ইমরান ইসলাম, নওগাঁঃ
নওগাঁর নিয়ামতপুরে দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে ৪ লাখ টাকার জন্য ৪৬ বিঘা জমির ৮ হাজার আম গাছ কেঁটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ বাবর আলী ও খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের উষ্ঠিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগষ্ট সকালে আমচাষী ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর গ্রামের মৃত হেকমত মোল্লার ছেলে এমারত মোল্লাহ আম গাছের পরিচর্যা করার জন্য ৬ জন কাজের লোক নিয়োগ করে।
এমতাবস্থায় প্রতিপক্ষ উপজেলার গাংগার গ্রামের মৃত আলহাজ্ব মনসুর আলীর ছেলে বাবর আলী ও পত্নীতলা উপজেলার কাঁটাবাড়ী গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন লোক আম বাগানে প্রবেশ করে এমারত মোল্লার কাজের লোকজনে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাড়িয়ে দিয়ে ৪৬ বিঘা জমির ৮ হাজার আম গাছ কেঁটে সাবাড় করে দেয়।
এমারত মোল্লা ২০২৩ সালের জুন মাসে বাবর আলী ও খোরশেদ আলমের নিকট থেকে ৯ বছরের জন্য উক্ত বাগান লিজ নেয়। চুক্তিনামা অনুযায়ী প্রতিবছর আম বাগান মালিককে ১৮ লক্ষ ৩৭ হাজার ২৮৫ টাকা দিতে হয়। এখন পর্যন্ত তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষী এমারত মোল্লা বলেন, আমি ৪৬ বিঘা জমির আম বাগান ৯ বছরের জন্য লিজ নেই। প্রতি বছর ১৪ লক্ষ টাকা আম বাগান মালিককে দিত হত। ইতি মধ্যে দুই বছর ভালোভাবে সমস্ত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
কিন্তু এ বছর বাগানে লোকসান হওয়ায় পুরো টাকা দিতে পারি নাই। ১৪ লক্ষ টাকার মধ্যে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকী ৪ লক্ষ টাকার জন্য তারা ৮ হাজার আম গাছ কেঁটে ফেলেছে। আমার প্রায় বিশ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাবর আলী ও খোরশেদ আলম আমাদের জোর করে বাগান থেকে বের করে দিয়েছে। বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিচ্ছে আমি যদি বাগানে আসি তাহলে প্রাণে মেরে ফেলবে। আমি নিরুপায় হয়ে নিয়ামতপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছে। আমি প্রশাসনের নিকট এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
আম বাগানের কর্মচারী আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি তিন বছর ধরে এই বাগানের দেখাশোনা করে আসছি। হঠাৎ মালিক পক্ষরা দ্বন্দ্ব লেগে গাছের ডালপালা কেঁটে সাবাড় করে দেয়।
প্রতিপক্ষ বাবর আলী মুঠোফোনে বলেন, এমারত মোল্লাকে ৯ বছরের জন্য বাগান লিজ দেই। প্রতি বছর ১৮ লক্ষ ৩৭ হাজার ২৮৫ টাকা দরে। সে কোন বছরই ঠিকভাবে টাকা পরিশোধ করে নাই। তারা এখন আর কোন টাকা দিতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। আমরা নিরুপায় হয়ে আমাদের বাগান দখলে নিয়েছি।
নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।